ঢাকা, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

চার খুনের ঘটনায় নতুন মোড়, জবানবন্দিতে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

২০২৬ আগস্ট ২৬ ১০:৩৮:৫৫
চার খুনের ঘটনায় নতুন মোড়, জবানবন্দিতে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সাক্ষী সীমান্ত চন্দ্র দাসের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত। মঙ্গলবার রাতে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়।

সীমান্ত চন্দ্র দাস নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র দাসের ছেলে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস তার বন্ধু। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, সীমান্ত তার বাবার সঙ্গে আদালতে এসে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে সীমান্তের বক্তব্যের মিল পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের রাতে আসামিরা সীমান্তের বাড়িতে গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলেও তার জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তারের পর রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই দুই যুবক সীমান্তের বাড়িতে গিয়ে ইয়াবা সেবন করেন। পরে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। শব্দ শুনে গণপতি সেখানে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের অন্য তিন সদস্যকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

আসামিদের ডোপ টেস্ট করা হবে কি না—এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। সোমবার সকালে এ-সংক্রান্ত ডকেট পাওয়ার পর আবেদন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের বক্তব্য ও বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে যে অমিল নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা উঠেছে, তদন্তের মাধ্যমে সেসবের উত্তর খোঁজা হবে। এ মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গত শনিবার রাতে নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। মুগ্ধ নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে এবং সিদ্ধার্থ বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে।

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে ওই দুই যুবক গণপতির বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন। পরে সেখানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার রাতে নগরীর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই রাতেই মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে অবসর নেন। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখতেন। নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে দোতলা বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছিলেন তিনি। নিচতলার কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও দুই থেকে তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে দোতলায় বসবাস করছিলেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে