ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

ব্রোকারেজের সফটওয়্যারে কারসাজি ঠেকাতে বিএসইসির আকস্মিক পরিদর্শন

২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৭:৫৭:১৭
ব্রোকারেজের সফটওয়্যারে কারসাজি ঠেকাতে বিএসইসির আকস্মিক পরিদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও সিকিউরিটিজ সুরক্ষায় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সন্দেহজনক লেনদেন, সম্ভাব্য অনিয়ম কিংবা বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে।

নতুন ব্যবস্থায় বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) দুইজন করে মোট আটজন প্রতিনিধির একটি পুল গঠন করা হবে। প্রতিটি পরিদর্শনের জন্য সেখান থেকে তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে একজন থাকবেন বিএসইসির, একজন সিডিবিএলের এবং অন্যজন ডিএসই অথবা সিএসইর প্রতিনিধি।

সংশ্লিষ্ট বিএসইসি বিভাগের একজন নির্বাহী পরিচালক পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। তাকে কমিশনের আরও দুই কর্মকর্তা সহযোগিতা করবেন।

যেভাবে হবে আকস্মিক পরিদর্শন

পরিদর্শনের দিন সকালে বিএসইসি কার্যালয়ে কর্মকর্তারা একত্রিত হয়ে সন্দেহজনক কার্যক্রম, সম্ভাব্য অনিয়ম এবং অন্যান্য ঝুঁকির সূচকের ভিত্তিতে তৈরি তালিকা থেকে একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবেন।

প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচনের পর পরিদর্শনকারী দলকে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজের আশপাশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর বিএসইসি প্রতিষ্ঠানটির প্রধানের কাছে আকস্মিক পরিদর্শনের চিঠি পাঠাবে। চিঠি দেওয়ার পরপরই দলটি ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গিয়ে পরিদর্শন শুরু করবে।

এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিদর্শনের আগে প্রতিষ্ঠানটির হাতে থাকা সময় কমিয়ে আনা। এতে রেকর্ড পরিবর্তন, সফটওয়্যারে কারসাজি কিংবা অনিয়ম গোপন করার সুযোগ কমবে বলে মনে করছে কমিশন।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, কমিশন আকস্মিক পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তার মতে, এ ধরনের পরিদর্শনের মাধ্যমে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়। ইতোমধ্যে এই পদ্ধতিতে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এর ফলাফল ভালো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আবুল কালাম বলেন, ডিএসই ও সিএসই এরই মধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করে থাকে। তবে অনেক সময় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই এসব পরিদর্শনের খবর পেয়ে যায়। ফলে অনিয়ম আড়াল করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে বিএসইসির নতুন আকস্মিক পরিদর্শন ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সূচি জানাননি।

পরিদর্শনে যা খতিয়ে দেখা হবে

পরিদর্শনকারী দল সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের কনসলিডেটেড কাস্টমারস অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) পরীক্ষা করবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন সিকিউরিটিজে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

এ ছাড়া ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারও খতিয়ে দেখা হবে। এসব সফটওয়্যারে গ্রাহকদের হিসাব, লেনদেন এবং সিকিউরিটিজের মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য থাকে। সফটওয়্যারে কোনো কারসাজি, অননুমোদিত পরিবর্তন কিংবা তথ্য গোপন করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করবেন পরিদর্শকরা।

একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করছে কি না, নিবন্ধন সনদ ঠিক আছে কি না এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত শর্তগুলো যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তাও যাচাই করা হবে।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ব্যাক-অফিসের তথ্যের সঙ্গে ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএলে সংরক্ষিত লেনদেন এবং সিকিউরিটিজ ধারণের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। এভাবে বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের ঘাটতি, তথ্যের অসঙ্গতি এবং একাধিক সফটওয়্যার ব্যবহারের বিষয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

ছয় ব্রোকারেজে ৬০৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছয়টি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ও ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার অপব্যবহার করে মোট ৬০৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এর মধ্যে তামহা সিকিউরিটিজের ১৪০ কোটি টাকা, ব্যাংকো সিকিউরিটিজের ১২৮ কোটি টাকা, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ৬৫ কোটি টাকা, শাহ মোহাম্মদ সাগীর সিকিউরিটিজের ১৪ কোটি টাকা, মশিউর সিকিউরিটিজের ১৬১ কোটি টাকা এবং সালতা ক্যাপিটালের ১০০ কোটি টাকা রয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আকস্মিক পরিদর্শন চালু হলে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা আরও জোরদার হবে। তবে তাদের মতে, উদ্যোগটির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি, পরিদর্শনে পাওয়া তথ্যের যথাযথ বিশ্লেষণ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে