ঢাকা, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীরবতায় দরপতনের গভীরতা বাড়ছে শেয়ারবাজারে

২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৪:৫৫:২৯
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীরবতায় দরপতনের গভীরতা বাড়ছে শেয়ারবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা দরপতনের ধারাবাহিকতায় দেশের শেয়ারবাজারে আবারও বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। গতকালের পর আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসেও সূচকের পতন হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব সূচক কমার পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টানা দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে টাকার অংকে লেনদেনও প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতির পরও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীরব ভূমিকা বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। পাশাপাশি বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শেয়ারবাজার বড় ধরনের ধসের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে বর্তমান কমিশনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে বলেও মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। দিন যত যাচ্ছে, নতুন কমিশনের ব্যর্থতার বোঝা ততই ভারী হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের শেয়ারবাজার যেভাবে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছিল, বর্তমান কমিশনের সময়ে সেই ধারাবাহিকতা থমকে গেছে। অথচ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যেই সরকার নতুন কমিশন গঠন করেছিল। কিন্তু কমিশনের কার্যক্রম বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাকে হতাশায় পরিণত করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৮ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৪৩ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এটি প্রায় দুই মাসের মধ্যে সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে গত ২৫ জুন ডিএসইএক্স প্রায় ৫ হাজার ৬৫৩ পয়েন্টে অবস্থান করেছিল।

অন্যদিকে, ডিএসইর শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১৬ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৩ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৪ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩০ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র ১৪টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ৩৫৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।

সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেনও কমেছে। সোমবার ডিএসইতে প্রায় ৬০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ৭ এপ্রিল ডিএসইতে ৫৯৭ কোটি ১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল।

আগের কর্মদিবস রোববার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ১০৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

এদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সোমবার শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে মোট ১৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার।

সোমবার সিএসইতে মোট ১৯১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২১টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ১৫৯টির দর কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিন শেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭৩ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ২৫৫ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন সিএএসপিআই ৭৪ দশমিক ০৯ পয়েন্ট কমেছিল।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে