ঢাকা, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয়

২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৬:৩৫:৫৩
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক: ডারউইনে টেস্টের প্রথম দিন থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল বাংলাদেশ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এলো। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার স্বাগতিকদের টেস্টে হারানোর ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ৯ উইকেটের দুর্দান্ত জয়ে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে বাস্তবে রূপ দিল টাইগাররা।

জয়ের প্রত্যাশা ছিল, তবে তার সঙ্গে ছিল সংশয়ও। বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের অভিজ্ঞতা এমনই—শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো কিছুই যেন পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ক্রিকইনফোর লাইভ কমেন্ট্রিতে চোখ রাখলেও সেই সংশয়ের ছাপ স্পষ্ট ছিল। অনেক সমর্থকের মনেই ঘুরছিল একই প্রশ্ন—‘শেষ পর্যন্ত আবার কোনো অঘটন ঘটে না তো?’

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসও এমন সংশয়ের যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে। মুলতান টেস্টে ইনজামামের সেই ঘটনা থেকে শুরু করে ফতুল্লা টেস্টে রিকি পন্টিং, কিংবা চট্টগ্রামে কাইল মেয়ার্সের অবিশ্বাস্য কীর্তি—চোখের সামনে এমন অনেক ঘটনা দেখেছেন সমর্থকেরা। তাই শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কোনো সাফল্যকে নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করতে তাদের দ্বিধা থাকাটাই স্বাভাবিক।

তবে ডারউইনের জয় ছিল সেই ধরনের এক ঘটনা, যা চোখের সামনে দেখেও বিশ্বাস করতে সময় লাগে। মাঝে মাঝে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন বাস্তবতাকেও স্বপ্ন বলে মনে হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয়ও ঠিক তেমনই এক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল।

কারণ দুই মাস আগের বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে এমন ফলাফল কল্পনা করাও কঠিন ছিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের একাদশের সাতজনই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পাওয়া দলে।

সেটিকে হয়তো খারাপ সময় বা সাময়িক ব্যর্থতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেত। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হারের বিষয়টি ছিল আরও বড় উদ্বেগের। কারণ সেই ম্যাচের দলটিও মূলত ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো দলেরই প্রতিচ্ছবি ছিল।

তাই সেই দলই যে অস্ট্রেলিয়াকে চার দিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে হারিয়ে দেবে, তা ছিল অনেকের কল্পনারও বাইরে। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াও যে এমন ফলের জন্য প্রস্তুত ছিল না, তার আভাস মিলেছে মারারা স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জেও। অস্ট্রেলিয়া সফর কাভার করতে যাওয়া এক সহকর্মীর ফেসবুক পোস্টে জানা যায়, ম্যাচটি তিন দিনের বেশি গড়াবে—এমন প্রত্যাশাই ছিল না অনেকের। ফলে চতুর্থ দিনের ভিআইপি লাউঞ্জের টিকিটও অনেকে কেনেননি। পরে সেই জায়গাগুলো ফাঁকাই পড়ে ছিল।

যেখানে ম্যাচ তিন দিন পার করবে কি না, তা নিয়েই ছিল সংশয়, সেখানে বাংলাদেশের চার দিনে জয় ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য। এমনকি ম্যাচের আগে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বাজির হিসাবও ছিল তাদের বিপক্ষে—রেট ছিল ১-২০। শেষ পর্যন্ত সেই হিসাব পুরোপুরি উল্টে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল বাংলাদেশ।

একটি টেস্ট ম্যাচে জয় কখনোই কেবল একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আসে না। ডারউইনেও বাংলাদেশের জয় ছিল দলীয় পারফরম্যান্সের অসাধারণ এক উদাহরণ। তবে শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে বড় ধাক্কা দিয়েছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ।

মাত্র ৫৫ রান খরচ করে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধরনের ধস নামিয়ে দেন হাসান। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে টিকতে পারেনি স্বাগতিকদের ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থামে মাত্র ১৯৮ রানে। বাংলাদেশের জয়ের ভিতটা তখনই শক্ত হয়ে যায়।

তবে বোলিংয়ের পরও বাংলাদেশের সামনে বড় প্রশ্ন ছিল ব্যাটিং। প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার দুঃসহ স্মৃতি তখনো দলের সঙ্গে ছিল। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ব্যাটাররা কেমন করবেন, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শঙ্কা ছিল।

সেই দুশ্চিন্তা দূর করে দেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তানজিদ দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে দলকে এগিয়ে দেন। শান্ত তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে না পারলেও খেলেন দারুণ ৮৪ রানের ইনিংস। দুজনের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হয়।

হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর তামিমের সেঞ্চুরি ও শান্তর ৮৪ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে ম্যাচের চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি টাইগারদের। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের বিরল কীর্তি গড়ে বাংলাদেশ।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর



রে