ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ, হাইকোর্টের রায়ে মিলল বড় ব্যাখ্যা

২০২৬ আগস্ট ১৪ ১৫:০৭:৫৯
সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ, হাইকোর্টের রায়ে মিলল বড় ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: হিন্দু দায়ভাগা আইনের আওতায় ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোন উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হিসেবে সরাসরি স্বত্ব দাবি করতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি রিভিশন আবেদন খারিজ করে অধস্তন আদালতের আগের রায় বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত।

গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পরে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। ‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস ও অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী ও অন্যান্য’ মামলায় এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রামকান্ত বিশ্বাস ১৯২০ সালে নিজের অর্থে তার ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে ১ দশমিক ৩৫ একর জমি কেনেন। তবে রামকান্তের জীবদ্দশাতেই তার ছেলে সতীশ মারা যান। পরে ১৯৩৩ সালে রামকান্তও মারা গেলে সতীশের স্ত্রী সাবিত্রী বালা ওই সম্পত্তির অধিকারী হন।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সাবিত্রী বালা ওই জমি ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করেন। এই বিক্রয় দলিলকে জাল ও প্রতারণামূলক দাবি করে ১৯৯৮ সালে পটিয়ার আদালতে উত্তরাধিকার স্বত্ব চেয়ে মামলা করেন রামকান্ত বিশ্বাসের মেয়ে শৌল বালা দাস।

পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি বিষয় পর্যালোচনা করে ২০০০ সালের ২২ জুন মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর শৌল বালা চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে আপিল করেন। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সেই আপিলও খারিজ হয়ে যায়।

এরপর অধস্তন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করা হয়। ওই বছরই হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট সেই রুল খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট হিন্দু দায়ভাগা আইনে বিধবা নারীর সম্পত্তির অধিকার এবং পরবর্তী উত্তরাধিকারীর বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। আদালত বলেছেন, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ওই সম্পত্তিতে অধিকার অর্জন করতে পারেন। তবে সেই অধিকার সাধারণ মালিকের মতো সম্পূর্ণ নয় এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তার ক্ষমতার ওপর আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আদালতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিধবা স্ত্রী সম্পত্তি হস্তান্তর করলে সেই হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার সবার থাকে না। যিনি বিধবার মৃত্যুর পর আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তির পরবর্তী প্রকৃত উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হওয়ার যোগ্য, মূলত তিনিই প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হস্তান্তরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রাখেন।

হাইকোর্ট আরও বলেছেন, কোনো ব্যক্তির সম্পত্তিতে বর্তমান বা ভবিষ্যৎ আইনগত স্বার্থ না থাকলে শুধু ‘আইনগত প্রয়োজন ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছে’—এমন দাবি করে তিনি আদালতে মামলা করতে পারেন না।

এই রায়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মামলায় দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের অবসান হয়েছে এবং অধস্তন আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে বহাল রয়েছে। তবে রায়টি নির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষাপটে হিন্দু দায়ভাগা আইনের অধীনে উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি হস্তান্তরের অধিকার নিয়ে আদালতের ব্যাখ্যা হিসেবে এসেছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে