ঢাকা, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

দুর্বল নজরদারিতে থমকে আছে বাজারের কাঙ্ক্ষিত গতি

২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৫:০৩:৪৪
দুর্বল নজরদারিতে থমকে আছে বাজারের কাঙ্ক্ষিত গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগের দিনের পতনের ধারাবাহিকতায় সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দিয়ে সপ্তাহ শুরু হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। রোববার (১৬ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব সূচক কমেছে। তবে টাকার অঙ্কে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে শেয়ারবাজার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার যে গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছিল, তাতে এতদিনে প্রধান সূচক ৭ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি থাকার কথা ছিল। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের বাধা পার হতে পারছে না।

তাদের মতে, বর্তমানে বাজারের প্রবণতাও স্থায়ী হচ্ছে না। একদিন সূচক বাড়লেও পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে। ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।

তবে বাজার নিয়ে এখনো আশাবাদী বিনিয়োগকারীরা। তাদের ধারণা, বাজারের ওপর যথাযথ ও কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতা কাটিয়ে আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে পারে শেয়ারবাজার। এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার পাশাপাশি ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

বরং মার্জিন ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা, যার নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে বাজারে পড়েছে। পাশাপাশি এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি চক্র বাজারকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে শেয়ারবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হচ্ছে না।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৩ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৫ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭১ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৮ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮৪ দশমিক ২২ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০২টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৪৭টির কমেছে এবং ৪১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি।

সূচকের পতন হলেও এদিন ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেন বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে প্রায় ১ হাজার ১৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এর আগের কর্মদিবসে ডিএসইতে প্রায় ৯২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২০৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) রোববার শেয়ার ও ইউনিট মিলে মোট ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কর্মদিবসে সিএসইতে ৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

এদিন সিএসইতে মোট ২১৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ১১২টির কমেছে এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

দিন শেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৮ দশমিক ১২ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৭৩৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের কর্মদিবসে সিএএসপিআই ২৪ দশমিক ৮১ পয়েন্ট কমেছিল।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে