ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

টানা ১৪ দিন ডিম খেলেই শরীরে যে ৩ পরিবর্তন, জানালেন বিশেষজ্ঞ

২০২৬ আগস্ট ১২ ১৯:৪৪:৩২
টানা ১৪ দিন ডিম খেলেই শরীরে যে ৩ পরিবর্তন, জানালেন বিশেষজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাবারের খুব পরিচিত একটি অংশ। সহজে রান্না করা যায়, তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায় এবং এতে প্রোটিনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে আসলে কী ধরনের প্রভাব পড়ে—এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে। বিশেষ করে ডিমে থাকা কোলেস্টেরল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত।

হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠির মতে, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া শরীরের জন্য বেশ কিছু উপকার বয়ে আনতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টানা দুই সপ্তাহ ডিম খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। তবে এসব পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে একইভাবে দেখা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

১. চোখের স্বাস্থ্যে সহায়তা করতে পারে

ডিমের কুসুমে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো চোখের রেটিনা ও বিশেষ করে ম্যাকুলার স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এসব পুষ্টি উপাদান থাকলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু চোখের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষ করে বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ও ছানির মতো সমস্যার ক্ষেত্রে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা রয়েছে। তবে শুধু ডিম খেলেই এসব রোগ প্রতিরোধ হবে—এমনটা বলা ঠিক নয়। চোখ ভালো রাখতে সামগ্রিকভাবে সুষম খাদ্য, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

২. মস্তিষ্ক ও লিভারের জন্য উপকারী পুষ্টি দিতে পারে

ডিম কোলিনের একটি ভালো খাদ্য উৎস। কোলিন শরীরে কোষের গঠন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্মৃতি ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে এই পুষ্টি উপাদানের সম্পর্ক রয়েছে।

ডিমে থাকা কোলিন লিভারের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শরীরে চর্বি পরিবহনের প্রক্রিয়ায় কোলিন প্রয়োজনীয়। এ কারণে পর্যাপ্ত কোলিন গ্রহণ লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা হিসেবে শুধু ডিম খাওয়ার ওপর নির্ভর করা যাবে না; ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

৩. দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে

ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন রয়েছে। একটি ডিমে কুসুম ও সাদা অংশ মিলিয়ে প্রায় ৬–৭ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। প্রোটিন তুলনামূলকভাবে বেশি সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে সকালের নাশতায় ডিম রাখলে অনেকের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

ডিমের সঙ্গে শাকসবজি, পূর্ণ শস্য বা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার যুক্ত করে নাশতা করলে আরও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার তৈরি করা যায়। তবে ডিম কীভাবে রান্না করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল, মাখন বা লবণ ব্যবহার করলে খাবারটির সামগ্রিক পুষ্টিগুণ ও ক্যালরির হিসাব বদলে যেতে পারে।

ডিম নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় এর কোলেস্টেরল নিয়ে। ডিমের কুসুমে খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরল থাকলেও, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে পরিমিত ডিম খাওয়া মানেই রক্তের কোলেস্টেরল বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যাবে—এমন সরল সিদ্ধান্ত ঠিক নয়। রক্তের কোলেস্টেরলের ওপর পুরো খাদ্যাভ্যাস, শরীরের ওজন, শারীরিক কার্যক্রম, জেনেটিক কারণসহ বিভিন্ন বিষয় প্রভাব ফেলে।

তবে যাদের আগে থেকেই উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য ডিমের পরিমাণ ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন একটি ডিম রাখা অনেকের জন্যই উপযুক্ত হতে পারে। তবে ‘১৪ দিন ডিম খেলেই’ চোখ, মস্তিষ্ক বা লিভারে নিশ্চিত পরিবর্তন আসবে—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ডিম একটি পুষ্টিকর খাবার হলেও শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সুষম খাদ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যারা প্রাণিজ খাবার এড়িয়ে চলেন, তাদের জন্য টোফু, ডাল, সয়াবিন, বাদাম ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিনও ভালো বিকল্প হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ডিমকে কোনো ‘ম্যাজিক ফুড’ হিসেবে না দেখে প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকার একটি পুষ্টিকর অংশ হিসেবে দেখাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর



রে