ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

দেশে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

২০২৬ জুলাই ০৯ ১৯:৩২:৫৯
দেশে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল আলোচিত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটকারীদের আপিল খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং রিটে পক্ষভুক্ত জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

রায় ঘোষণার পর ড. শরীফ ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট শিশির মনির একে ‘ঐতিহাসিক রায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, এই রায়ের ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল) দেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। সেদিন রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

এরও আগে গত বছরের ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়। রিটকারী সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে এ আবেদন করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। আবেদনে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন বাতিলেরও দাবি জানানো হয়।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়নি।

হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমেই এর বিকাশ ঘটে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থা তৈরি হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছে বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। বাকি বিধানগুলো ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি এবং ২৬ মার্চের ভাষণসংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে।

গণভোট বিষয়ে আদালত বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ হিসেবে থাকা গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করার যে ব্যবস্থা পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারায় করা হয়েছিল, তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে ওই ধারা বাতিল করে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।

একই রায়ে সংবিধানের ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়। ৭ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল বা স্থগিতকরণকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ ছিল, ৭খ অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধান সংশোধন অযোগ্য করার বিধান ছিল এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদে সংসদকে অন্য আদালতকে মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের বেঞ্চ ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের করা রিটের শুনানি শেষে ওই রুল জারি করেন।

পরে ওই রিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণফোরাম, ইনসানিয়াত বিপ্লবসহ কয়েকজন আবেদনকারী পক্ষভুক্ত হন।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, নারীদের জন্য সংরক্ষিত সংসদীয় আসন ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীত করা এবং আরও কয়েকটি সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা হয়।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে