ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

বাজার অস্থির করার চেষ্টা ব্যর্থ, বিনিয়োগকারীদের আস্থায় উত্থান অব্যাহত

২০২৬ জুলাই ০৬ ১৪:৪২:০৪
বাজার অস্থির করার চেষ্টা ব্যর্থ, বিনিয়োগকারীদের আস্থায় উত্থান অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজারে পতন ঘটানোর বিভিন্ন অপচেষ্টা উপেক্ষা করে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধরে রেখেছে দেশের শেয়ারবাজার। রোববার (৬ জুলাই) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবকটি সূচকই বেড়েছে। যদিও টাকার অঙ্কে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কমেছে, তবে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে অধিকাংশেরই।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সরকারের সময়ে শেয়ারবাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে এবং সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র এই স্থিতিশীল পরিবেশকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে তাদের অভিযোগ।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এই চক্রের প্রভাবে শেয়ারবাজার তলানিতে নেমে গিয়েছিল এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেওয়ায় একই চক্র আবারও বাজারকে অস্থিতিশীল করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে।

তাদের দাবি, সোমবার লেনদেনের শুরু থেকেই বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে মধ্যাহ্নের পর একটি চক্রের অসাধু কৌশলের কারণে বাজারের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ে। এরপরও তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি। দিনশেষে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান বজায় রেখেই লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে দুপুরের পর লেনদেনের গতি কমে যাওয়ায় টাকার অঙ্কে মোট লেনদেনও হ্রাস পায়।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগকারীরা সতর্ক থাকলে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বাজার পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করলে পুঁজিবাজারের বর্তমান স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১২ দশমিক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৯৯ দশমিক ৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৩ দশমিক ১ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯২ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৬টির দর বেড়েছে, ১৫৫টির দর কমেছে এবং ৭১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর আগের কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন প্রায় ১১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা কমেছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সোমবার ১৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এ বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

সিএসইতে এদিন ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৯৬টির দর কমেছে এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিন শেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৬৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৪৮৪ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এই সূচক ৯৭ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বেড়েছিল।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে