ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ওয়াশিং ইউনিট বন্ধ করে নতুন পরিকল্পনায় শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

২০২৬ জুলাই ০৬ ১৩:০৩:৩৮
ওয়াশিং ইউনিট বন্ধ করে নতুন পরিকল্পনায় শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি তাদের উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ব্যবহৃত, উৎপাদন সক্ষমতা হারানো এবং অধিক গ্যাস খরচের কারণে অলাভজনক হয়ে পড়া মোট ১৯২টি যন্ত্রপাতি বিক্রি করবে। একই সঙ্গে কোম্পানির ওয়াশিং ইউনিটের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। ভবিষ্যতে ওই ইউনিটে কাপড় উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে বলা হয়েছে, বিক্রির জন্য অনুমোদিত যন্ত্রপাতিগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি এসব যন্ত্র পরিচালনায় অতিরিক্ত গ্যাসের প্রয়োজন হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এ ছাড়া যন্ত্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক—উভয় দিক থেকেই এসব যন্ত্রপাতি কোম্পানির জন্য অকার্যকর ও অলাভজনক হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির কম গ্যাস ব্যবহারকারী নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে কোম্পানি। পরিচালনা পর্ষদের মতে, পুরোনো যন্ত্রপাতি বিক্রি করে নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করবে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, যন্ত্রপাতি বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উন্মুক্তভাবে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হয়। প্রাপ্ত সব প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য দরদাতার প্রস্তাব পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করেছে। সেই অনুযায়ী মোট ২ কোটি ৮২ লাখ টাকায় ১৯২টি যন্ত্রপাতি বিক্রি করা হবে।

বিক্রির তালিকায় রয়েছে লেজার কাটিং যন্ত্র, জিন্সে নকশা তৈরির যন্ত্র, জিন্স ঘষার যন্ত্র, বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানার কাপড় ধোয়ার যন্ত্র, পানি ঝরানোর যন্ত্র, শিল্প ড্রায়ার, রং করার যন্ত্র, বায়ুচাপ উৎপাদনকারী যন্ত্র, ওজোনভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র, ব্রাশিং যন্ত্র, গ্রাইন্ডিং যন্ত্র, স্ট্যাপলিং যন্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের মোট ১৯২টি যন্ত্রপাতি।

বিক্রির জন্য অনুমোদিত ১৯২টি যন্ত্রপাতির বাংলা তালিকা নিচে দেওয়া হলো—

  • ত্রিমাত্রিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (সিও₂) ডাইনামিক লেজার মেশিন — ১টি

    ডেনিমে লেজার খোদাই (এনগ্রেভিং) করার মেশিন — ১টি

    জিন্স ঘষে ফিনিশিং করার মেশিন — ২টি

    শিল্পকারখানার কাপড় ধোয়া ও রং করার মেশিন (বিভিন্ন মডেল) — মোট ২৬টি

    ইনভার্টার নিয়ন্ত্রিত পানি নিষ্কাশন (হাইড্রো এক্সট্রাক্টর) মেশিন — ৬টি

    জ্বালানি সাশ্রয়ী শিল্প ড্রায়ার মেশিন — মোট ৩৫টি

    শিল্প ড্রায়ার — ২টি

    কেন্দ্রাতিগ পানি নিষ্কাশন (সেন্ট্রিফিউগাল হাইড্রো এক্সট্রাক্টর) মেশিন — ২টি

    পোশাক রং করার মেশিন (দুই ধরনের) — ২টি

    প্যান্টে বাতাস প্রয়োগের (ব্লো প্যান্টস) মেশিন — ৪ সেট

    বেঞ্চ গ্রাইন্ডার মেশিন — ২০টি

    স্ট্যাপল পিন সংযুক্ত করার মেশিন — ২০টি

    শিল্পকারখানার কাপড় ধোয়ার মেশিন (বিভিন্ন মডেল) — মোট ২৬টি

    শিল্প ড্রাইং মেশিন — ১০টি

    শিল্প হাইড্রো এক্সট্রাক্টর মেশিন — ৪টি

    হাতে ব্রাশিং করার মেশিন — ১৫টি

    স্ক্রু এয়ার কম্প্রেসর — ২টি

    শিল্প ওজোন জীবাণুমুক্তকরণ মেশিন — ২টি

ওয়াশিং ইউনিট বন্ধের সিদ্ধান্ত

যন্ত্রপাতি বিক্রির পাশাপাশি কোম্পানিটি তাদের ওয়াশিং ইউনিটের কার্যক্রমও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, এই ইউনিট পরিচালনায় ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ এর মাধ্যমে প্রত্যাশিত আয় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ইউনিটটি পরিচালনা করা আর অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক নয়।

নতুন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা

ওয়াশিং ইউনিট বন্ধ হলেও ওই স্থাপনাকে ভবিষ্যতে কাপড় উৎপাদন কারখানায় রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও হয়নি। অনুমোদন সম্পন্ন হলে বিষয়টি মূল্যসংবেদনশীল তথ্য হিসেবে বিনিয়োগকারীদের জানানো হবে।

প্রকাশিত তথ্যে যেসব বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য

প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে।

প্রথমত, কোম্পানিটি একসঙ্গে ১৯২টি মূলধনী যন্ত্রপাতি বিক্রি করছে, যা উৎপাদন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয়ত, কোম্পানি নিজেই স্বীকার করেছে যে যন্ত্রপাতিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে, গ্যাসের ব্যবহার অত্যধিক এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেগুলো আর লাভজনক নয়।

তৃতীয়ত, সম্পূর্ণ একটি ওয়াশিং ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যা কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

চতুর্থত, ওয়াশিং ইউনিট থেকে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় সেটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চমত, পুরোনো প্রযুক্তির পরিবর্তে কম জ্বালানি ব্যবহারকারী আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা উৎপাদন ব্যয় কমানোর কৌশলের অংশ।

সবশেষে, ওয়াশিং ইউনিটের জায়গায় ভবিষ্যতে কাপড় উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে