ঢাকা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ঋণখেলাপি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন কৌশল, শুরু তীব্র আলোচনা

২০২৬ জুলাই ০১ ১৮:৪৪:৫৭
ঋণখেলাপি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন কৌশল, শুরু তীব্র আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: খেলাপি ঋণ কমাতে এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক হিসাব আরও বাস্তবসম্মত করতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো এখন নির্দিষ্ট শর্তে খেলাপি ঋণের চার্জড (আরোপিত) ও আনচার্জড (অনারোপিত) সুদ মওকুফ করতে পারবে। এতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার স্থগিত সুদ মওকুফের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন। নতুন নীতিতে অনেক ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতারা শুধু মূল ঋণের অর্থ পরিশোধ করেই এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন, অর্থাৎ সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নাও থাকতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর স্থগিত সুদ হিসাবে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার অনারোপিত সুদ জমা হয়েছে। এসব সুদ মওকুফ করা হলে খেলাপি ঋণের হার ৩০.৬০ শতাংশ থেকে প্রায় ২৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিনের মন্দ ঋণ নিষ্পত্তি সহজ করা, ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট পরিষ্কার করা এবং ঋণগ্রহীতাদের পুনরায় নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, এতে ঋণখেলাপিরা আরও উৎসাহিত হতে পারেন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুহাম্মদ এ. (রুমি) আলীও সতর্ক করে বলেন, আগে আয় হিসেবে গণ্য করা সুদ মওকুফ করলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা ও মূলধনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে দুর্বল আর্থিক অবস্থার ব্যাংকগুলোর জন্য এটি বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, কয়েকজন ব্যাংক নির্বাহীর মতে, সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে থাকা অনারোপিত সুদ প্রকৃত আয় নয়। তাই এসব সুদ মওকুফ করলে ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী আরও বাস্তবসম্মত হবে এবং দীর্ঘদিনের অচল ঋণ নিষ্পত্তির পথ সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করা হলেও এর প্রায় ৪০ শতাংশ ঋণ আবার খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকারদের মতে, শুধুমাত্র পুনঃতফসিল নয়, টেকসই সমাধানের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি) গঠন, দুর্বল ঋণগ্রহীতাদের পুনর্গঠন এবং কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে