ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বিমা খাতে আস্থার সংকট কাটাতে সুশাসন ও নতুন পণ্যের ওপর জোর

২০২৬ জুন ২৭ ১৫:৫৬:৫৫
বিমা খাতে আস্থার সংকট কাটাতে সুশাসন ও নতুন পণ্যের ওপর জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিমা খাতে ন্যায্যতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কৃষি ও স্বাস্থ্য বিমার সম্প্রসারণ, নতুন নতুন বিমা পণ্য চালু, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার (২৭ জুন) ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত ‘বিমা খাতের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও কৃষি বিমার বিস্তার এখনো খুবই সীমিত। বিমা কোম্পানিগুলো যদি কৃষি বিমাকে লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচনা না করে, তাহলে কৃষকদের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। দেশের বাস্তবতায় কৃষি বিমার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় বিমার আওতা অত্যন্ত কম। বিমা খাতকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হলে বিদ্যমান পণ্যের পাশাপাশি নতুন নতুন বিমা পণ্য চালু করতে হবে। কৃষি বিমার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিমাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন পণ্য চালুর মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য বিমা মূলত উচ্চবিত্ত এবং সীমিতসংখ্যক চাকরিজীবীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির পর্যাপ্ত ব্যবহার না থাকায় একদিকে গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বিমা কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় ও অপচয় বাড়ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে গ্রাহকের অধিকার সংরক্ষণ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সড়কপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও কার্যকর বিমা সুরক্ষার আওতায় আসতে পারছেন না। তাই এ ক্ষেত্রেও বিমা সেবার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।

বিমা খাতের অন্যতম বড় দুর্বলতা হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষা এবং তাদের আস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন না হওয়ায় বিমা খাতে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বিমা কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষায় ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অডিটর, সার্ভেয়ার, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিসহ বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

ড. তিতুমীর আরও বলেন, আর্থিক খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ মানুষের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি করেছে। তবে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণও কাম্য নয়। এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে কার্যকর তদারকি এবং বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ একযোগে কাজ করবে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক বিমা খাত গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বিমার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে, সুশাসন নিশ্চিত হবে এবং প্রতিটি গ্রাহক তার ন্যায্য সেবা ও প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

ড. তিতুমীরের ভাষায়, “বিমা খাতে ন্যায্যতার বড় অভাব, বিমা খাতে অধিকারের বড় অভাব এবং বিমা খাতে কার্যকর রেগুলেশনেরও বড় অভাব রয়েছে।”

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন, বিমা কোম্পানির মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি সাঈদ আহমেদ এবং বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) সভাপতি বিএম ইউসুফ আলীসহ সংশ্লিষ্ট খাতের নেতারা।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে