ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক অসঙ্গতি

২০২৬ জুন ২৪ ২৩:০৩:৪৫
ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক অসঙ্গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ‘কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন’ এবং ‘এমফাসিস অব ম্যাটার’ অনুচ্ছেদ যুক্ত করেছেন নিরীক্ষক। কোম্পানিটির নিরীক্ষক মো. কামাল উদ্দিন, এফসিএ, সিনিয়র পার্টনার, তোহা খান জামান অ্যান্ড কোং, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস এ মতামত প্রদান করেন।

নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির আর্থিক বিবরণীর ২১.০২ নম্বর নোটে ‘অ্যাডভান্স এগেইনস্ট আদার্স’ শিরোনামের অধীনে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকা মূল্যের দীর্ঘদিনের অনাদায়ী ও আদায়-অযোগ্য ‘এজেন্ট ব্যালেন্স’ রয়েছে। এই অগ্রিম কয়েক বছর ধরে অনাদায়ী থাকায় সম্পদটির মূল্য বাস্তব অবস্থার তুলনায় বেশি দেখানো হয়েছে এবং এর অর্থ পুনরুদ্ধার হওয়া নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ কারণেই নিরীক্ষক ‘কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন’ প্রদান করেছেন।

নোট-২১.০২ অনুযায়ী, ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার ৬১০ টাকার ‘অ্যাডভান্স এগেইনস্ট আদার্স’-এর মধ্যে এজেন্ট ব্যালেন্সের পরিমাণই ১১ কোটি ৭০ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকা। এছাড়া ‘কলেকশন কন্ট্রোল অ্যাকাউন্ট’-এ রয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭১ টাকা এবং ‘অ্যাডভান্স অ্যাগেইনস্ট ক্লেইম পেমেন্ট: মিস.’ খাতে রয়েছে ৩৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৭২ টাকা।

কোম্পানি জানিয়েছে, এসব দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া আদায়ে অনিশ্চয়তা থাকায় প্রত্যাশিত ঋণক্ষতির বিপরীতে ২৫ লাখ টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য ২০২৫ সাল থেকে শুরু করে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সংরক্ষণ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মন্দার কারণে পূর্ণ পরিমাণ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি বলে কোম্পানি উল্লেখ করেছে।

নিরীক্ষকের ‘এমফাসিস অব ম্যাটার’ অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, আর্থিক বিবরণীর ১৯.০০ নম্বর নোটে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৩১৪ টাকা পরিমাণ ‘আউটস্ট্যান্ডিং প্রিমিয়াম’ দেখানো হয়েছে, যা এখনো সমন্বয় বা আদায় করা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে এ খাতে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে এবং প্রদর্শিত প্রিমিয়ামের পরিমাণ অতিমূল্যায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিরীক্ষকের মতামতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

নোট-১৯.০০ অনুযায়ী, অনাদায়ী প্রিমিয়ামের মধ্যে ফায়ার ইন্স্যুরেন্স খাতে ৪৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭০ টাকা, মেরিন কার্গো খাতে ২৩ লাখ ২ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং মোটর ইন্স্যুরেন্স খাতে ১ কোটি ৭৪ লাখ ১৬৯ টাকা রয়েছে। সব মিলিয়ে অনাদায়ী প্রিমিয়ামের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৩১৪ টাকা।

নিরীক্ষক আরও উল্লেখ করেছেন, কোম্পানিটি এখনো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্বীকৃত কোনো গ্র্যাচুইটি তহবিল গঠন করেনি। বর্তমানে কর্মীদের গ্র্যাচুইটির অর্থ নগদ ভিত্তিতে পরিশোধ করা হচ্ছে। ফলে গ্র্যাচুইটি-সংক্রান্ত দায় ও কর্মী সুবিধা ব্যয় প্রকৃত অবস্থার তুলনায় কম দেখানো হতে পারে, যা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় কর পরিহারের জন্য আইনানুগভাবে গ্র্যাচুইটি তহবিল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন নিরীক্ষক।

এছাড়া আর্থিক বিবরণীর ১২.০০ নম্বর নোটে ৫০ লাখ ৯৩ হাজার ৯৮৩ টাকা মূল্যের ‘আনক্লেইমড ডিভিডেন্ড অ্যাকাউন্ট’-এর সর্বশেষ অবস্থান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও নিরীক্ষকের মতামতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নোট-২১.০২ ও ২১.০৩ অনুযায়ী কলেকশন কন্ট্রোল অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭১ টাকা, অ্যাডভান্স অ্যাগেইনস্ট ক্লেইম পেমেন্ট: মিস. খাতে ৩৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৭২ টাকা এবং প্রিপেইড এক্সপেন্সেস খাতে ৭ কোটি ১০ লাখ ১৩ হাজার ৪০৯ টাকা রয়েছে। এসব অগ্রিমের ভিত্তি ও বর্তমান অবস্থান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আর্থিক বিবরণীতে ব্যাখ্যা করেছে এবং এ বিষয়েও নিরীক্ষকের মতামত অপরিবর্তিত রয়েছে।

নোট-২১.০৩ অনুযায়ী, ‘ডিপোজিট অ্যান্ড প্রিপেমেন্টস’ খাতে মোট ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭০ টাকা রয়েছে, যার মধ্যে প্রিপেইড এক্সপেন্সেসই ৭ কোটি ১০ লাখ ১৩ হাজার ৪০৯ টাকা। এ খাতেও প্রত্যাশিত ঋণক্ষতির বিপরীতে ২৫ লাখ টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সবশেষে নিরীক্ষক উল্লেখ করেছেন, আইএফআরএস-১৭ (ইনস্যুরেন্স কন্ট্রাক্টস) এখনো প্রয়োগ না করার কারণও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আর্থিক বিবরণীর নোটে ব্যাখ্যা করেছে। এ বিষয়েও নিরীক্ষকের মতামতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে