ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

মা ও তিন মেয়েকে হ/ত্যার ঘটনায় নতুন করে যা জানা গেল

২০২৬ জুন ২৬ ১০:২৩:২৩
মা ও তিন মেয়েকে হ/ত্যার ঘটনায় নতুন করে যা জানা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে মা ও তার তিন মেয়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার একটি বাড়িতে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন (১৮) বেঁচে গেলেও হারিয়েছেন তার পুরো পরিবার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান পরিবারের কর্তা কামাল হোসেন। এরপর শাহিনুর বেগম তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।

ঘটনার সময় সিফাত তার কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি রায়পুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

সাইফুল ইসলাম মুরাদ জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও সকালে কাজে এসেছিলেন সিফাত। পরে বেলা ১১টার দিকে তার মা ও তিন বোনের নিহত হওয়ার খবর আসে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন তিনি।

স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, স্বজনদের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সিফাত। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।

নিহতদের মধ্যে বড় মেয়ে সায়মা আক্তার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার সহপাঠী প্রমি আক্তার জানান, সায়মার লক্ষ্য ছিল মেডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া।

মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ছোট মেয়ে শিফা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, পাঁচজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে হাসপাতালে মারা যান। গুরুতর আহত অপর মেয়েটি ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়। নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমঘটিত বিরোধ বা অর্থনৈতিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

একই দিনে মা ও তিন বোনকে হারিয়ে সিফাত হোসেন এখন পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে