ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে এলো নতুন কড়াকড়ি

২০২৬ জুন ০৫ ১১:৫৫:১২
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে এলো নতুন কড়াকড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, পড়াশোনা, কাজ কিংবা পারিবারিক কারণে যেতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন কার্যক্রম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে নতুন স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করছে দেশটি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের এখন থেকে তাদের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো পাবলিক বা উন্মুক্ত রাখতে হবে, যাতে ভিসা কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে পারেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সম্পর্কে আরও বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে শুধু কাগজপত্র নয়, আবেদনকারীর অনলাইন কার্যক্রম, বক্তব্য, যোগাযোগ ও সামাজিক উপস্থিতিও নিরাপত্তা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

এ কারণে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাইকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী নিম্নোক্ত নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের অতিরিক্ত অনলাইন স্ক্রিনিংয়ের মুখোমুখি হতে হবে—

* A-3

* C-3 (গৃহকর্মী)

* G-5

* H-3

* H-4

* K-1 (বাগদানভিত্তিক ভিসা)

* K-2

* K-3

* Q

* R-1

* R-2

* S

* T

* U

এছাড়াও নিম্নোক্ত ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই আরও জোরদার করা হবে—

* H-1B কর্মসংস্থান ভিসাধারী ও তাদের নির্ভরশীল সদস্যরা

* F ক্যাটাগরির শিক্ষার্থী ভিসা

* M ক্যাটাগরির কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার্থী ভিসা

* J ক্যাটাগরির এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা

স্টেট ডিপার্টমেন্ট আবেদনকারীদের নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন সেগুলোর প্রাইভেসি সেটিংস উন্মুক্ত রাখতে।

এর ফলে ভিসা কর্মকর্তারা আবেদনকারীর অনলাইন পরিচয়, কার্যক্রম, মতামত, যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সহজে যাচাই করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), টিকটক, লিংকডইনসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসা আবেদন মূল্যায়নের সময় আবেদনকারীর সম্পর্কে ‘উপলব্ধ সব ধরনের তথ্য’ বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বিশেষ করে তারা খতিয়ে দেখবে—

* জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো ঝুঁকি রয়েছে কি না

* সহিংসতা বা উগ্রবাদ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা আছে কি না

* ভিসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে দেওয়া তথ্য সঠিক কি না

* আবেদনকারীর পরিচয় ও অনলাইন কার্যক্রমের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আবারও স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো মৌলিক অধিকার নয়।তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা একটি বিশেষ সুযোগ, যা আবেদনকারীর যোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের ভিত্তিতে দেওয়া হয়।

প্রতিটি ভিসা আবেদনকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এজন্য আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার শর্ত অনুযায়ী বৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং অভিবাসনের আগ্রহ বাংলাদেশিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বেশি। নতুন নিয়মের ফলে ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য, পোস্ট, মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের সামঞ্জস্য বজায় রাখার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা আবেদনকারীদের উচিত অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া পরিচয় বা পরস্পরবিরোধী তথ্য এড়িয়ে চলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বিষয়ে সচেতন থাকা।

নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর হলে মার্কিন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় অনলাইন উপস্থিতি ও ডিজিটাল পরিচয়ের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সর্বশেষ খবর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি - এর সব খবর



রে