ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

হাদি হ/ত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতার চাঞ্চল্যকর বক্তব্য

২০২৬ জুন ০৩ ১১:৩৭:২৮
হাদি হ/ত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতার চাঞ্চল্যকর বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ টেনে গুরুতর কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত এক ধরনা কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী সহিংসতা, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কথিত ‘প্রতিহিংসামূলক আচরণ’-এর প্রতিবাদে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

বক্তৃতার একপর্যায়ে বাংলাদেশের আলোচিত হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মমতা দাবি করেন, ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন কয়েকজনকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল এবং পরে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ আসে।

মমতা অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারের পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটি বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তারা সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে। আমাদের এসটিএফ তাদের আটক করে। এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেন, বিষয়টি বাইরে যেন না যায়।”

এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত ছিল সে বিষয়ে তার কাছে অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে। তবে দেশের স্বার্থ ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার কথা বিবেচনা করে তিনি সংশ্লিষ্ট কোনো নাম প্রকাশ করতে চান না।

মমতা বলেন, “কাকে দিয়ে খুন করানো হয়েছিল, কার নাম বেরিয়েছিল— এসব বিষয়ে আমি অনেক কিছু জানি। কিন্তু আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। তাই কোনো নাম বলব না। বললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যেতে পারে।”

তবে মমতার এসব বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ বা নথি উপস্থাপন করেননি। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার অংশ হিসেবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তার উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য হলে তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

এদিকে মমতার বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখছেন।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে