ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

বড় গ্রাহক ঋণ নীতিতে বড় পরিবর্তন আনল বাংলাদেশ ব্যাংক

২০২৬ মে ১৪ ১৯:৩৮:৫০
বড় গ্রাহক ঋণ নীতিতে বড় পরিবর্তন আনল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বড় গ্রাহকদের ঋণ ও একক গ্রাহক ঋণসীমা সংক্রান্ত নীতিতে শিথিলতা এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প খাতে অর্থায়ন সহজ করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন ২০২৮ পর্যন্ত কোনো একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ একটি ব্যাংকের মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা নিতে পারবে (ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড মিলিয়ে)। আগে এ সীমা ছিল ১৫ শতাংশ।

এই বিষয়ে বুধবার (১৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

২০২২ সালের নীতিমালায় একক গ্রাহকের ঋণসীমা ব্যাংকের মূলধনের ১৫ শতাংশ নির্ধারিত ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের হিসাব পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে নন-ফান্ডেড দায়ের ৫০ শতাংশ হিসাবের মধ্যে ধরা হতো। এখন তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো এলসি, গ্যারান্টি ও ট্রেড ফাইন্যান্সভিত্তিক কার্যক্রমে তুলনামূলক বেশি সুবিধা দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই সুবিধা ধাপে ধাপে আগের কাঠামোতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের কনভার্সন ফ্যাক্টর ২৫ শতাংশ থাকবে। এরপর ধাপে ধাপে এটি বাড়িয়ে ২০২৭ সালের শেষে ৩০ শতাংশ, ২০২৮ সালের শেষে ৪০ শতাংশ এবং ২০২৯ সালের শেষে ৫০ শতাংশ করা হবে। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আগের নিয়ম পুনরায় কার্যকর হবে।

এছাড়া বড় ঋণ পোর্টফোলিওর সীমাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার অনুযায়ী বড় ঋণের সীমা নির্ধারণ করা হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ বা তার কম হলে মোট ঋণ ও অগ্রিমের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বড় ঋণ হিসেবে রাখা যাবে। অন্যদিকে খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশের বেশি হলে এ সীমা কমে ৩০ শতাংশে নেমে আসবে। তবে সব ক্ষেত্রেই ব্যাংকের মোট বড় ঋণের পরিমাণ মূলধনের ৬০০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না— যা আগে ছিল ৪০০ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সংশোধিত এই বিধান ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর ২০২৮ সালের শুরু থেকে আগের নীতিমালা পুনরায় কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সহজ করতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং এটি ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে