ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

ইইউ বাজারে চাহিদা কমে বিপাকে পোশাক খাত

২০২৬ মে ১৩ ১০:৪৩:৫৯
ইইউ বাজারে চাহিদা কমে বিপাকে পোশাক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে আবারও চাপ তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ২.৮২ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ১৭২ কোটি ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি কমেছে ৩.৬৮ শতাংশ এবং ওভেন খাতে কমেছে ১.৮৩ শতাংশ।

বিশেষ করে প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি ৪.৩৮ শতাংশ কমে যাওয়ায় পুরো খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই যায় ইইউভুক্ত দেশগুলোতে। এই সময়ে অঞ্চলটিতে রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৫৫৪ কোটি ডলারের পোশাকপণ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় ভোক্তারা পোশাকসহ অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। এতে নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

শুধু ইউরোপ নয়, অপ্রচলিত বাজারেও রপ্তানি কমেছে। গত ১০ মাসে এসব বাজারে আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৫১৬ কোটি ডলারে, যা আগের তুলনায় ৫.৮৩ শতাংশ কম।

তবে কিছু বাজারে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়ে ৬২৯ কোটি ডলার, কানাডায় ১০৯ কোটি ডলার এবং যুক্তরাজ্যে ৩৬৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ইউরোপীয় বাজারের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারছে না।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক চাহিদা কমার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশেষ করে উৎপাদন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

গত কয়েক বছরে শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি, কাঁচামালের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ডলার সংকটের কারণে আমদানিনির্ভর কাঁচামাল কিনতেও বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিং ও গ্যাসচাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করতে গিয়ে খরচ আরও বাড়ছে।

শিল্প মালিকদের মতে, সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা দ্রুত বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বর্তমানে ভিয়েতনাম, ভারত, চীন, তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে ইহসান শামীম বলেন, “ইউরোপে অর্থনৈতিক ধীরগতি, মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দক্ষতা বাড়ানো, ব্যবসা সহজীকরণ এবং শুল্ক ও ভ্যাট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

সব মিলিয়ে দেশের তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে একাধিক চাপে রয়েছে। তবে নীতি সহায়তা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বাজার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এই খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে