ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার ন্যূনতম সম্পদ

২০২৬ মে ১২ ১০:০৯:৪৭
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার ন্যূনতম সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামে কোরবানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট দিনে পশু কোরবানি করা মুসলমানদের জন্য বিশেষ আমল হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,“অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।”— (সুরা কাওসার: ২)

হাদিসে কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ফাতেমা (রা.)–কে কোরবানির সময় উপস্থিত থাকতে বলেছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেন,“কোরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলা তোমার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।”

এ ছাড়া সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার ব্যাপারেও কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,“যার কোরবানির সামর্থ্য আছে, তবুও সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।”

প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, যদি তিনি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের মধ্যে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।

কোরবানির নেসাব নির্ধারণে সাধারণত নিচের সম্পদগুলো বিবেচনায় আনা হয়—নগদ টাকা, সোনা ও রূপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, অতিরিক্ত বাড়ি বা গাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তবে বসবাসের ঘর, দৈনন্দিন ব্যবহারের পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

কোরবানির নেসাব নির্ধারণ করা হয় সাড়ে ৫২ ভরি রুপার মূল্যের ভিত্তিতে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৮ টাকা বা সমমূল্যের অতিরিক্ত সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে।

তবে রুপার বাজারমূল্য পরিবর্তনশীল হওয়ায় ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে চলমান বাজারদর অনুযায়ী হিসাব করার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।তাদের মতে, শুধু নগদ টাকা নয়—সোনা, রূপা ও অন্যান্য অতিরিক্ত সম্পদ মিলিয়েও যদি নেসাব পূর্ণ হয়, তাহলে কোরবানি দিতে হবে।

ইসলামি শিক্ষায় কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক। তাই এই ইবাদত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই পালন করতে হবে।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন,“কোরবানির দিনের আমলগুলোর মধ্যে পশু কোরবানি করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় আর কোনো আমল নেই।”

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে