ঢাকা, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ব্যাংক খাতে লুটেরাদের ফেরার পথ বন্ধ: বিএবি

২০২৬ মে ১১ ২০:৪৮:৪৩
ব্যাংক খাতে লুটেরাদের ফেরার পথ বন্ধ: বিএবি

নিজস্ব প্রতিবেদক; বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংস (বিএবি)। বৈঠকে আর্থিক সহায়তা, নতুন আইন এবং শিল্পখাতের সংকট নিয়েও আলোচনা হয়।

সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিএবির চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার। তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন নীতিগত বিষয় এবং সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে কোম্পানি আইনের সংশোধিত ১৮-ক ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা, আইনের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগের সুযোগ নিয়ে অতীতে অনিয়মে জড়িত কিছু গোষ্ঠী আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আসার চেষ্টা করতে পারে।

তবে এ বিষয়ে গভর্নর স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন বলে জানান আবদুল হাই সরকার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান ব্যাংক রেগুলেশন আইনের সব শর্ত কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হলে ব্যাংক খাতের অনিয়মকারী বা লুটেরাদের ফিরে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি আলোচিত ধারাটি বর্তমানে কার্যকর নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করতে বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্যাকেজ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

তবে এই সুবিধা সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে না। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে কিন্তু চলতি মূলধনের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আবদুল হাই সরকার বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার আগে তার আর্থিক অবস্থা, দায়-দেনা, ব্যবসার বাস্তবতা এবং অতীত কার্যক্রম কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর ও সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণের প্রসঙ্গেও গভর্নর তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন বলে জানান বিএবি চেয়ারম্যান। এর আগে যে পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।

এছাড়া শিল্পখাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। দীর্ঘদিনের জ্বালানি ঘাটতির কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

সার্বিকভাবে ব্যাংকিং ও শিল্প খাতের বিভিন্ন সংকট ও উদ্বেগের বিষয়গুলো গভর্নরের সামনে তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব বিষয় ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিলেও যেকোনো ধরনের আর্থিক সহায়তায় কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের নীতিতে অটল থাকার কথা জানিয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে