ঢাকা, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

ইতিহাস বদলে যাচ্ছে! ঢাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে বড় সিদ্ধান্ত

২০২৬ মে ১০ ১৯:১৬:৩৫
ইতিহাস বদলে যাচ্ছে! ঢাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে বড় সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব ও টানাপোড়েনের পর এবার নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন এক কাঠামো গড়ে তুলেছে। সম্প্রতি ঢাকায় দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত এবং সীমান্তপারের অপরাধ দমনে সমন্বিত কার্যক্রম চালুর আনুষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। যদিও এটিকে মূলত মাদক নিয়ন্ত্রণ ও মানবপাচার প্রতিরোধের সহযোগিতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে এর পরিধি সাধারণ আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার চেয়ে আরও বিস্তৃত হতে পারে।

এই সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধ তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গোপন তথ্য বিনিময়, তদন্ত কার্যক্রমে যৌথ সমন্বয় এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’ নামের একটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় মাদক পাচার ও অবৈধ চালান শনাক্ত ও অনুসরণ করা সম্ভব হয়।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের অ্যান্টি-নারকোটিক্স ফোর্সের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আরও কার্যকর সমন্বয় আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত রূপ নিতে পারে।

আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব এই চুক্তিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত যোগাযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে তুলনামূলকভাবে উষ্ণতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত জোট রাজনীতিরও একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে দুই দেশই এই সমঝোতাকে এখন পর্যন্ত সীমিত ও কারিগরি সহযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করছে। তাদের মতে, মূল লক্ষ্য হলো মাদক পাচার, মানবপাচার এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন করা, রাজনৈতিক বা সামরিক জোট গঠন নয়। তারপরও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং যৌথ তদন্ত কাঠামোর কারণে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে আরও গভীর নিরাপত্তা সহযোগিতার ভিত্তি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই নতুন নিরাপত্তা সমঝোতা দীর্ঘদিনের স্থবির সম্পর্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি কতটা বিস্তৃত হয়, সেটিই এখন আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে