ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

তিন অডিট ফার্ম ও চার অডিটর শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ 

২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৮:০০:৩৩
তিন অডিট ফার্ম ও চার অডিটর শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ 

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন যথাযথভাবে নিরীক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনটি অডিট ফার্ম ও চারজন অডিটরকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

গত ২৩ এপ্রিল পৃথক আদেশে মাহফেল হক অ্যান্ড কো. চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস, আতা খান অ্যান্ড কো. চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং শিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কো. চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস-এর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয় কমিশন। একইসঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও সাবেক চারজন অংশীদার অডিটরকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল—তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক অনিয়ম শনাক্তে ব্যর্থ হলেও অডিটররা প্রায়ই দায়মুক্ত থেকে যাচ্ছেন। ফলে বিভ্রান্তিকর আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

বিএসইসি জানায়, রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড-এর টানা তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের নিরীক্ষায় গুরুতর ত্রুটি করে এই তিন অডিট ফার্ম। কোম্পানিটি আইপিওর আগে প্রাইভেট অফারের মাধ্যমে বিনামূল্যে শেয়ার বিতরণ করে, যা জালিয়াতির শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া যেসব শেয়ারহোল্ডার শেয়ারের মূল্য পরিশোধ করেননি, তাদেরকেও স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়া হয়। এর ফলে প্রকৃত অর্থ ছাড়াই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালে কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কিন্তু এসব অনিয়মের কোনো কিছুই অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মাহফেল হক অ্যান্ড কো.

২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষায় ব্যর্থতার জন্য মাহফেল হক অ্যান্ড কো.-কে তিন বছরের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিএসইসি’র তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ না করেই ‘অপরিবর্তিত অডিট মতামত’ প্রদান করেছে। সম্পদ, সংরক্ষিত আয় ও নিট মুনাফার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

এছাড়া ফেয়ারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স-এর ২০১৮ সালের নিরীক্ষায় ত্রুটির কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

একই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সাবেক অংশীদার মো. আব্দুস সাত্তারকে পাঁচ বছর এবং মো. আবু কায়সারকে দুই বছরের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

আতা খান অ্যান্ড কো.

২০১৯ সালের নিরীক্ষায় রিং শাইন টেক্সটাইলসের সম্পদ ও মুনাফা সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে ব্যর্থ হওয়ায় আতা খান অ্যান্ড কো.-কে তিন বছরের জন্য বিএসইসি’র অডিটর প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি ‘অপরিবর্তিত মতামত’ প্রদান করে, যা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের শামিল।

প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার মাকবুল আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য অডিটর প্যানেল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কো.

২০২০ সালের নিরীক্ষায় অনিয়মের কারণে শিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কো.-কে তিন বছরের জন্য অডিটর প্যানেল থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির এনগেজমেন্ট পার্টনার রমেন্দ্র নাথ বসাক—যিনি বিএসইসি’র তালিকাভুক্ত অডিটর ছিলেন না—তাকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তদন্তে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (IFRS) অনুযায়ী নিরীক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই মতামত প্রদান করেছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে