ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ট্রাস্টি না থাকায় ৩৩০ কোটি টাকার বন্ড আটকে গেল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের

২০২৬ এপ্রিল ২৮ ২২:৫১:২০
ট্রাস্টি না থাকায় ৩৩০ কোটি টাকার বন্ড আটকে গেল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি-এর ৩৩০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ আপাতত থেমে গেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) (বিএসইসি) কোম্পানিটির আবেদন স্থগিত রেখেছে, ফলে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

জানা গেছে, নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বন্ড ইস্যুর আবেদনটি অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি বিএসইসির ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিং বিভাগ থেকে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিএসইসি সূত্র বলছে, আবেদন জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও কোম্পানিটি এখনো বন্ডের জন্য ট্রাস্টি নিয়োগ দিতে পারেনি। পাশাপাশি, জমা দেওয়া নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে, যা নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৯ জুন কোম্পানিটি ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন টাকা, অর্থাৎ ৩৩০ কোটি টাকার ‘নন-কনভার্টিবল ফুললি রিডিমেবল আনসিকিউরড ফিক্সড রেট তৃতীয় জিরো-কুপন বন্ড’ ইস্যুর জন্য আবেদন করে। তবে প্রায় এক বছর পার হলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় প্রক্রিয়াটি অগ্রসর হয়নি।

এ অবস্থায় ট্রাস্টি নিয়োগ অসম্পূর্ণ থাকা এবং আর্থিক তথ্যের বৈধতা শেষ হয়ে যাওয়ায় আবেদনটি বিবেচনার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কমিশন। যদিও সব শর্ত পূরণ করে নতুন করে আবেদন করলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।

ফলে কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের বড় পরিকল্পনাটি আপাতত স্থবির হয়ে পড়েছে। নতুন নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ পুনরায় আবেদন করতে হলে পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিলম্ব ও প্রস্তুতির ঘাটতি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বন্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকলেও তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বিএসইসির ৯০১তম কমিশন সভায় কোম্পানিটির বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তখন ২৫০ কোটি টাকার একটি আনসিকিউরড, নন-কনভার্টিবল, ফুললি রিডিমেবল জিরো-কুপন বন্ড অনুমোদিত হয়। এই বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে এনডিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড দায়িত্বে ছিল।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে