ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

১০৭টি বিও অ্যাকাউন্টে বেক্সিমকোর ৬,৭৫৫ কোটি টাকা জব্দ

২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১৫:৫৪:৩৯
১০৭টি বিও অ্যাকাউন্টে বেক্সিমকোর ৬,৭৫৫ কোটি টাকা জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি’র সাবেক চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ পর্যন্ত গ্রুপটির সাত হাজার কোটি টাকার বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আদালতের নির্দেশনায় এসব সম্পদ বর্তমানে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অধীনে রয়েছে। দুদকের নেতৃত্বাধীন জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে এখন পর্যন্ত মোট ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুদক করেছে ১১টি মামলা এবং সিআইডি করেছে ১৭টি মামলা। এসব মামলার ভিত্তিতেই আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট সম্পদগুলো ফ্রিজ করা হয়েছে।

দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, আদালতের নির্দেশে ক্রোক বা অবরুদ্ধ হওয়া সম্পদের বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করাই তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। পাশাপাশি তদন্ত ও অনুসন্ধান কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আদালতের আদেশ জানাতে এ ইউনিট সহায়তা করে। তিনি বলেন, জব্দকৃত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ যাতে কোনোভাবেই হস্তান্তর না হয়, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য।

জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১০৭টি বিও অ্যাকাউন্টে মোট ৬৭.৫৫ বিলিয়ন টাকা বা ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি রয়েছে ৯৪টি কোম্পানির শতভাগ শেয়ার, ১৯৭০.৪৬৭ শতাংশ জমি (আনুমানিক মূল্য ১১.৯৩ কোটি টাকা) এবং লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাট (আনুমানিক মূল্য ৭.৭৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড বা প্রায় ১২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা)।

বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে নয় সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স কাজ করছে। এ পর্যন্ত দুদক ১১টি মামলা করেছে এবং আরও প্রায় এক ডজন মামলার প্রস্তুতি চলছে। এসব মামলায় বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়ায় অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্যে দুটি এমএলএআর পাঠানো হয়েছে।

২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর রপ্তানি জালিয়াতি ও এলসির বিপরীতে ঋণের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৯৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

এছাড়া ২০২৫ সালের ৩ জুন অপ্রতুল জামানত ও জাল সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আইএফআইসি ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটিতে ৬৭৮ কোটি টাকা এবং অন্যটিতে ৪৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি আরও একটি মামলায় ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল বন্ডের বিপরীতে জাল জামানত ও অতিমূল্যায়িত সম্পত্তি দেখিয়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকিং ও করপোরেট খাতে এসব অনিয়ম দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের আগস্ট মাসে সালমান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে