ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

সূরা ত্বা-হা: বিস্তারিত তাফসির ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১২:৪৪:০৫
সূরা ত্বা-হা: বিস্তারিত তাফসির ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সূরা ত্বা-হা কুরআনের ২০তম সূরা, যা মাক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরায় মূলত তাওহীদ (আল্লাহর একত্ববাদ), নবুওয়াত, আখিরাত এবং হযরত মূসা (আ.)-এর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সূরার শুরুতেই “ত্বা-হা” অক্ষর উল্লেখ রয়েছে, যার প্রকৃত অর্থ আল্লাহই ভালো জানেন।

সূরায় আল্লাহ তাআলা নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, কুরআন কোনো কষ্ট দেওয়ার জন্য নয়, বরং এটি আল্লাহভীরুদের জন্য একটি উপদেশ ও পথনির্দেশ। এতে নবীকে অতিরিক্ত কষ্ট না নিয়ে ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

সূরার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে হযরত মূসা (আ.)-এর কাহিনি। তুর পাহাড়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম ওহি লাভ, ফিরআউনের কাছে দাওয়াত, এবং তার অহংকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ঘটনা এতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ মূসা (আ.)-কে তার ভাই হারুন (আ.)-কে সহযোগী হিসেবে দেন যাতে দাওয়াতের দায়িত্ব সহজ হয়।

পরবর্তীতে ফিরআউনের জাদুকরদের সাথে প্রতিযোগিতার ঘটনা বর্ণনা করা হয়, যেখানে মূসা (আ.)-এর লাঠি সাপ হয়ে জাদুকরদের সব কৌশলকে পরাজিত করে। এই ঘটনার পর জাদুকররা সত্য বুঝে ঈমান গ্রহণ করেন। এরপর বনী ইসরাইলকে নিয়ে লোহিত সাগর পার হওয়ার অলৌকিক ঘটনা এবং ফিরআউনের বাহিনীর ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূরায় আরও বর্ণিত হয়েছে বনী ইসরাইলের সামিরি নামক ব্যক্তির প্ররোচনায় স্বর্ণের বাছুর পূজা করার ঘটনা, যা ঈমানের দুর্বলতার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

শেষ অংশে কিয়ামতের দিন মানুষের পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ এবং জান্নাত-জাহান্নামের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূরা ত্বা-হা থেকে মূল শিক্ষা হলো—অহংকার ধ্বংস ডেকে আনে, ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসা সফলতার পথ খুলে দেয় এবং সত্যের পথে থাকা সবসময় পরীক্ষার সম্মুখীন হয়।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে