ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

বাল দেবতার রহস্য: ইতিহাসে এবং কোরআনে উল্লিখিত নাম

২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৯:৩২:০৯
বাল দেবতার রহস্য: ইতিহাসে এবং কোরআনে উল্লিখিত নাম
বাল দেবতার রহস্য: ইতিহাসে এবং কোরআনে উল্লিখিত নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: শব্দগত অর্থে ‘বাল’ মানে মাস্টার, চিফ বা অধিপতি। এটি স্বামী অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে। কোরআনের কিছু আয়াতে এ শব্দ স্বামী বা প্রধানের অর্থে এসেছে, যেমন: সূরা আল-বাকারা আয়াত ২২৮, সূরা আন-নিসা আয়াত ১২৭, সূরা হুদ আয়াত ৭২, সূরা আন-নূর আয়াত ৩১

তবে প্রাচীন সময়ের সেমিটিক জাতিগণ ‘বাল’ শব্দটি দেবতা বা অধিপতির অর্থে ব্যবহার করত। বিশেষ করে ফিনিশীয় সভ্যতায় প্রধান পুরুষ দেবতা ছিলেন বাল, আর তার স্ত্রী ছিলেন আশতোরেথ। গবেষকরা বিতর্কিত, বাল সূর্য নাকি বৃহস্পতিকে নির্দেশ করে, আর আশতোরেথ চাঁদ নাকি শুক্র গ্রহকে।

ইতিহাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাবিলন থেকে মিশর পর্যন্ত বাল পূজা ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। লেবানন, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের বহু দেবতা-অনুরাগী সম্প্রদায় এটিতে নিয়োজিত ছিল।

যিশ্রায়েলীয়রা মিশর থেকে বের হয়ে প্যালেস্টাইন ও জর্ডানে বসতি স্থাপন করার পর তারা পলিথেইস্টিক জাতিগণের সঙ্গে বিবাহ ও সামাজিক সম্পর্ক শুরু করল। এটি তোরাহর কঠোর নির্দেশাবলীর লঙ্ঘন ছিল, এবং মূর্তিপূজার প্রভাব দ্রুত তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল।

বাইবেলের বর্ণনা

যিশ্রায়েলীয়রা আল্লাহর চোখে অকল্যাণ করত এবং বাল ও আশতোরেথকে পূজা করত। (Judges 2:11-13)

তারা ক্যানানীয়, হিত্তি, আমোরি এবং অন্যান্য জাতির সঙ্গে বিবাহ করত এবং তাদের দেবতাদের পূজা করত। (Judges 3:5-6)

বাল পূজার প্রভাব এতটাই বৃদ্ধি পেল যে এক এলাকায় জনসাধারণের জন্য একটি ভাস্কর্য মঞ্চ তৈরি করা হয়। একজন আল্লাহভক্ত যিশ্রায়েলীয় তা সহ্য করতে না পেরে এক রাতের মধ্যে মঞ্চটি ভেঙে ফেলে। পরদিন সাধারণ মানুষ তাকে মৃত্যুদণ্ডের দাবি করে। (Judges 6:25-32)

প্রলয়টি শেষ করেন সামুয়েল, সৌল এবং নবী দাউদ ও সুলায়মান (আ.)। তারা যিশ্রায়েলীয়দের সংস্কার করে একদেবতাবাদ ও মূর্তিপূজা দূর করেন। তবে নবী সুলায়মানের (আ.) মৃত্যুর পর পুনরায় বাল পূজা পুনরুত্থিত হয়, বিশেষ করে উত্তর-প্যালেস্টাইনের এলাকায়।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে