ঢাকা, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

শেয়ারবাজারে আইপিও’র গতি ফেরাতে নীতিমালা পরিবর্তনের দাবি

২০২৬ এপ্রিল ১২ ১৪:৫৫:৫৫
শেয়ারবাজারে আইপিও’র গতি ফেরাতে নীতিমালা পরিবর্তনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা থেকে সৃষ্ট নতুন ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে দেশের শেয়ারবাজার এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। উচ্চ সুদের হার এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় করপোরেট খাতে এখন সম্প্রসারণের চেয়ে টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে আইপিও প্রবাহ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজার বিষয়ক উপদেষ্টা তানভীর গণি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নীতিগত সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তথ্য বলছে, ২০২১ সালে যেখানে ১৩টি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে এসেছে, সেখানে ২০২৫ সালে কোনো নতুন আইপিও হয়নি। এই পতন কেবল দুর্বল কোম্পানির কারণে নয়; বরং অনেক শক্তিশালী কোম্পানিও উচ্চ ঋণের বোঝায় আইপিওতে আসতে পারছে না। গত কয়েক বছরে মূলধনী ব্যয়ের জন্য নেওয়া ঋণের চাপ এখন তাদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও বিএসইসি আইপিওতে প্রিমিয়াম নির্ধারণের পদ্ধতিতে আধুনিকায়ন এনেছে, তবুও বাজারে গতি ফেরাতে আরও বড় পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কোম্পানিগুলোকে তাদের ব্যালান্সশিট পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রণীত ‘Public Offer of Equity Securities Rules, 2025’ অনুসারে আইপিও বা আরপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা যায়। এই সীমা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কোম্পানির ঋণ-ইকুইটি অনুপাত বেশি হলে মাত্র ৩০ শতাংশ ঋণ পরিশোধ করে তাদের আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব হয় না। অন্যদিকে বাকি অর্থ এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে বাধ্য করা হলে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে লাভজনক নয়, তাহলে আইপিও কোম্পানির জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে।

এ কারণে ভালো মানের অনেক কোম্পানিই শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইপিও বাজারে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হলে এই ৩০ শতাংশ সীমা শিথিল বা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। এতে করে কোম্পানিগুলো ঋণের চাপ কমাতে পারবে, আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণে আগ্রহী হবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে