ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় কাঁপল মার্কিন শেয়ারবাজার

২০২৬ মার্চ ২৮ ১৬:১৫:৩৩
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় কাঁপল মার্কিন শেয়ারবাজার

ডেস্ক প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান থেকে আসা পরস্পরবিরোধী বার্তার প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

দিনশেষে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ১.০১ শতাংশ কমে ৪৫,৯৬০.১১ পয়েন্টে নেমে আসে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১.৭৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ৬,৪৭৭.১৬ পয়েন্টে এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ২.৩৮ শতাংশ কমে ২১,৪০৮.০৮ পয়েন্টে বন্ধ হয়।

এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ১১টি খাতের মধ্যে ৮টিতেই দরপতন হয়েছে। এর মধ্যে কমিউনিকেশন সার্ভিসেস ও প্রযুক্তি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যথাক্রমে ৩.৪৬ শতাংশ ও ২.৭৪ শতাংশ পতন নিয়ে। তবে জ্বালানি ও ইউটিলিটি খাতে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত। বৃহস্পতিবার তেহরান ও তেল আবিব উভয় পক্ষই সামরিক হামলা চালিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়েও কোনো সমঝোতা হয়নি।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, দেরি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তবে দিনের এক পর্যায়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে—এমন খবরে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বড় পতন ঠেকানো যায়নি।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ৯৪ ডলার ছাড়িয়েছে।

তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব কীভাবে ফেডারেল রিজার্ভ-এর ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতিতে পড়বে, তা নিয়েও বিনিয়োগকারীরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

অর্থনৈতিক তথ্যের দিক থেকে দেখা গেছে, ২১ মার্চ শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতা আবেদনকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১০ হাজারে, যা বাজার প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গোল্ডম্যান স্যাকস-এর অর্থনীতিবিদ পিয়েরফ্রানচেসকো মেই মন্তব্য করেছেন, তেলের ধাক্কা ও ধীরগতির কর্মসংস্থানের কারণে আগামী তৃতীয় প্রান্তিকে বেকারত্বের হার ৪.৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে বন্ড বাজারে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের সুদহার বেড়ে ৪.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা শেয়ারবাজারে চাপ আরও বাড়িয়েছে।

কর্পোরেট খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দর কমেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আসবাব প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মিলারনল-এর শেয়ার একদিনে ২২.৩৭ শতাংশ পড়ে গেছে, কারণ তারা চলতি প্রান্তিকে দুর্বল আর্থিক পূর্বাভাস দিয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে