ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

ইসলামে জুমার দিনের মর্যাদা ও করণীয়

২০২৬ মার্চ ২০ ১১:৫৫:০৯
ইসলামে জুমার দিনের মর্যাদা ও করণীয়

অনলাইন ডেস্ক: ইসলামে জুমার দিনকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যেখানে মুসলিমদের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু করণীয় ও নির্দেশনা।

পবিত্র কোরআনের সুরা জুমুয়া-এর ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন মুমিনদের উচিত সব কাজ ফেলে আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হওয়া এবং কেনাবেচা পরিত্যাগ করা। এটিই তাদের জন্য উত্তম, যদি তারা তা উপলব্ধি করে।

এই আয়াতের আলোচনায় বলা হয়, জুমার দিন মূলত মুসলিমদের সাপ্তাহিক সমাবেশের দিন। তাই একে ‘ইয়াওমুল জুমআ’ বলা হয়। বিভিন্ন হাদিসে এই দিনের বিশেষত্ব তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ তাআলা ছয় দিনে সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেন এবং শেষ দিনটি ছিল জুমার দিন (মুসলিম, হাদিস: ২৭৮৯)।

হাদিসে আরও এসেছে, সপ্তাহের সবচেয়ে উত্তম দিন হচ্ছে জুমার দিন। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়। এমনকি কেয়ামতও এই দিনেই সংঘটিত হবে (মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)।

এ দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এতে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হয় (বুখারি, হাদিস: ১৯৩৫)।

আল্লাহ তাআলা প্রতি সপ্তাহে এই দিনটিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য সমাবেশ ও ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তবে পূর্ববর্তী উম্মতরা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে। ইহুদিরা শনিবার এবং খ্রিস্টানরা রবিবারকে তাদের সমাবেশের দিন নির্ধারণ করে নেয়।

এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুসলিমরা কিয়ামতের দিন অগ্রগামী হবে এবং তারাই প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে। যদিও আগের জাতিদের আগে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা মতভেদে জড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ মুসলিমদেরকে জুমার দিনের সঠিক হেদায়াত দিয়েছেন (বুখারি, হাদিস: ৮৭৬)।

আয়াতে উল্লেখিত ‘নূদিয়া’ শব্দ দ্বারা জুমার আযানকে বোঝানো হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.), আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.)-এর সময় ইমাম মিম্বরে বসার পর আযান দেওয়া হতো। পরে উসমান (রা.) মানুষের সংখ্যা বাড়ায় অতিরিক্ত আহ্বান যুক্ত করেন (বুখারি, হাদিস: ৯১২)।

এছাড়া ‘ফাসআউ’ শব্দের অর্থ দৌড়ে যাওয়া নয়, বরং গুরুত্বসহকারে এগিয়ে যাওয়া। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাতের জন্য দৌড়ে যেতে নিষেধ করেছেন এবং শান্ত ও গাম্ভীর্য বজায় রেখে মসজিদে যেতে বলেছেন (বুখারি, মুসলিম)।

এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, জুমার আযান হলে মুসলিমদের উচিত অন্য সব কাজ বাদ দিয়ে সালাত ও খুতবার প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে উপস্থিত হওয়া।

হাদিসে জুমার দিনে দ্রুত মসজিদে যাওয়ার গুরুত্বও বর্ণিত হয়েছে। এক হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রথম সময়ে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কুরবানি করার সমান সওয়াব পায়। ধীরে ধীরে পরবর্তী সময়গুলোতে গেলে সেই সওয়াবের পরিমাণ কমতে থাকে (বুখারি, হাদিস: ৮৮১)।

সবশেষে, জুমার দিনকে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তা কবুল করা হয় (বুখারি, হাদিস: ৬৪০০)।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে