ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ইস্টার্ন ব্যাংকের সম্পদ জব্দের খবরে ব্যাখ্যা দিল এসএস স্টিল

২০২৬ মার্চ ১৮ ১৪:৪৯:৩১
ইস্টার্ন ব্যাংকের সম্পদ জব্দের খবরে ব্যাখ্যা দিল এসএস স্টিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এসএস স্টিল লিমিটেড সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি’র সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি এবং ১৬ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কোম্পানির চেয়ারম্যানের বনানীর বাড়ি জব্দের খবর প্রকাশের পর এই ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সংবাদে তাদের বিনিয়োগকারী, ঋণদাতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাই প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরা জরুরি হয়ে পড়ে।

এসএস স্টিলের দাবি অনুযায়ী, ইস্টার্ন ব্যাংকের দেওয়া ঋণ সুবিধাগুলো নির্দিষ্ট কিছু সম্পদের বিপরীতে অনুমোদিত হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিলের স্যাংশন লেটারে এসব জামানতের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত শিল্প জমি, ভবন, কারখানার যন্ত্রপাতি, ভাসমান সম্পদ, শেয়ার লিয়েন এবং ব্যক্তিগত গ্যারান্টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে কোম্পানিটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, চেয়ারম্যান জাভেদ ওপেনহেফেনের মালিকানাধীন বনানীর চারতলা আবাসিক ভবনটি কখনোই ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা হয়নি। ফলে এই সম্পত্তিকে জামানতের অংশ হিসেবে দেখানো বা এ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি সঠিক নয় বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এসএস স্টিল আরও জানায়, বিভিন্ন প্রতিবেদনে সম্পত্তি জব্দ বা নিলামের যে তথ্য প্রকাশ হয়েছে, বাস্তবে তেমন কোনো নিলাম কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং হাইকোর্ট নিলাম প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এর ফলে সম্পত্তিটির দখল এখনো বৈধ মালিকদের কাছেই রয়েছে।

বিতর্কিত এই বিষয়টির সূত্রপাত ঘটে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(১) ধারার অধীনে জারি করা একটি নিলাম নোটিশ থেকে। যা ২০২৪ সালের অর্থঋণ মামলা নম্বর ২৬৭৩ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এক্সিকিউশন কেস নম্বর ১১০৬-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে এসএস স্টিল সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় একটি রিট আবেদন করে, যেখানে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং একই সঙ্গে নিলাম কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের বিষয়ে সময়ও প্রদান করা হয়েছে।

এসএস স্টিল তাদের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছে, পুরো বিষয়টি এখন আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে কোম্পানিটি মনে করে, ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চুক্তিভিত্তিক জামানতের মধ্যেই পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

কোম্পানিটি সতর্ক করে বলেছে, অনুমোদিত জামানতের বাইরে গিয়ে কোনো সম্পদের ওপর দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, কোম্পানির চেয়ারম্যান জাভেদ ওপেনহেফেন একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী, যার বাংলাদেশে ইস্পাত, শিল্প কেবল, সিরামিক ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ রয়েছে। এসএস স্টিলের মতে, জামানতের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এএসএম/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে