ঢাকা, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

বৈশ্বিক মন্থর চাহিদার মাঝেও ইইউতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা

২০২৬ মার্চ ০৪ ১৫:৪৪:৩১
বৈশ্বিক মন্থর চাহিদার মাঝেও ইইউতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান এখন আরও দৃঢ়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও চাহিদা মন্থরতার মধ্যেও ইউরোপে বাংলাদেশের বাজার অংশ বেড়ে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ২১.৫৭ শতাংশে। এর মাধ্যমে দেশটি ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

ইউরোস্টেট–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সময়কালে ইইউয়ের মোট পোশাক আমদানি প্রায় ৮ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১০ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে (সমমান হিসাব অনুযায়ী)। একই সময়ে বাংলাদেশ তার রপ্তানি আয় বাড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা থেকে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ বছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৬ শতাংশ।

তুলনামূলকভাবে একই সময়ে চীনের রপ্তানি বেড়েছে ২১.৪৮ শতাংশ এবং ভারতের ৩৩.১৮ শতাংশ। অন্যদিকে তুরস্কের রপ্তানি কমেছে ৯.৪৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির বিচারে বাংলাদেশই এগিয়ে রয়েছে।

২০২২ সালে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায় এবং বাজার অংশ দাঁড়ায় ২২.০৬ শতাংশে। তবে ২০২৩ সালে ইউরোপে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি নেমে আসে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকায়। তবুও বাজার অংশ ২০ শতাংশের ওপরে ধরে রাখা সম্ভব হয়। ২০২৪ সাল থেকে পুনরুদ্ধার শুরু হয়ে ২০২৫ সালে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো(ইপিবি) জানিয়েছে, ইউরোপ এখনো বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। দেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে, যার সিংহভাগ যায় ইউরোপীয় বাজারে।

ইইউতে সর্বোচ্চ অংশ এখনো চীনের। ২০২১ সালে দেশটির বাজার অংশ ছিল ৩০.২৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে ২৭.৮৫ শতাংশে এলেও ২০২৫ সালে আবার বেড়ে ২৯.৫৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যদিও চীন প্রথম অবস্থানে রয়েছে, বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে ব্যবধান আরও কমাতে পারে।

বর্তমানে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। তুলনায় ২০২৫ সালে তুরস্কের বাজার অংশ ৯.২৭ শতাংশ, ভারতের ৫.০৩ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ৪.৯৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলেই এই অবস্থান সম্ভব হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ইউরোপীয় ক্রেতাদের আস্থা বজায় রয়েছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর প্রতিযোগিতা বাড়বে। তাই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালী করা, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, বৃহৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) বলেছে, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা ও গ্রিন ফ্যাক্টরি বৃদ্ধির ফলে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো প্রয়োজন।

গত পাঁচ বছরের প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প তার সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার পরিচয় দিয়েছে। ইউরোপীয় বাজারে এই অগ্রগতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে