ঢাকা, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

রোজা মাকরুহ হয় যেসব কারণে

২০২৬ মার্চ ০২ ১০:৫৭:৫৮
রোজা মাকরুহ হয় যেসব কারণে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রমজান মাস হলো আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর রহমত লাভের শ্রেষ্ঠ সময়। এই মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। রোজা রাখার নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। মুফতি জাকারিয়া হারুন জানিয়েছেন, রোজা অবস্থায় কিছু কাজ করা মাকরুহ বা অনুচিত, যা রোজার মর্যাদা কমিয়ে দিতে পারে।

রোজা অবস্থায় মাকরুহ বিবেচিত কিছু কাজ

১. গুলগুল করা বা নাক পরিষ্কার করা

রোজা অবস্থায় কুলি করার সময় নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো মাকরুহ। লাকিত ইবনে সবিরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “অজু বা গোসলের সময় ভালোভাবে নাকে পানি দাও, তবে রোজাদার হলে নয়।”(তিরমিজি, হাদিস: ৭৬৬; আবু দাউদ: ১/৩২২)

২. শরীর দুর্বল করে এমন কাজ

রোজা অবস্থায় এমন কাজ করা মাকরুহ, যার কারণে রোজাদার অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যায়। যেমন শিঙা লাগানো।(আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০০)

৩. রক্ত বের হওয়া

রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে বা ইনজেকশন ইত্যাদির মাধ্যমে রক্ত বের হলেও রোজা ভাঙবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে রক্ত বের করলে, যার কারণে রোজাদার দুর্বল হয়, তা মাকরুহ।সাবেত আলবুনানী (রহ.) বর্ণনা করেছেন, আনাস (রা.) বলেন, “রোজা অবস্থায় শিঙা ব্যবহার করা নিজে মাকরুহ নয়, তবে যদি এতে দুর্বল হয়ে যায়, তা মাকরুহ হবে।”(বুখারি, হাদিস ১৯৪০; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫)

৪. গিবত, গালি-গালাজ ও বড় ধরনের গুনাহে লিপ্ত হওয়া

রোজা অবস্থায় গিবত করা, গালি দেওয়া, টিভি-সিনেমা দেখা, গান-বাদ্য শ্রবণ করা এবং অন্য কোনো বড় গুনাহ করা রোজা মাকরুহ করে।

হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেন:“তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, তখন সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং হট্টগোল ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে।”(বুখারি, হাদিস: ১৯০৪)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:“যে ব্যক্তি মিথ্যা-প্রতারণা ও গুনাহের কাজ ত্যাগ করে না, মহান আল্লাহর কাছে তার পানাহার থেকে বিরত থাকা কোনো মূল্য নেই।”(বুখারি, হাদিস: ১৯০৩; আবু দাউদ, হাদিস: ৩৩৬২ (১/৩২২))

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে