ঢাকা, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের নতুন চ্যালেঞ্জ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৫:১১:১৬
ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের নতুন চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘকাল ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও ২০২৫ সালের শেষ দিকে এসে সেই চিত্র পাল্টে যেতে শুরু করেছে। শুল্কমুক্ত সুবিধার ওপর ভর করে গড়ে ওঠা এই শক্ত ভিত্তি এখন নানামুখী চাপে টালমাটাল। ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইইউতে পোশাক আমদানি মূল্য কমেছে ২.২৭ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ; এই এক মাসেই দেশি পোশাকের রপ্তানি আয় কমেছে ১২.০৫ শতাংশ। মূলত সরবরাহ প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও পণ্যের গড় একক দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় আয়ে এই বড় ধাক্কা লেগেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করায় রপ্তানিকারক দেশগুলো এখন ইউরোপকে তাদের বিকল্প গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর ফলে ইইউ বাজারে পোশাকের সরবরাহ যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রতিযোগিতা হয়েছে তীব্র। ২০২৫ সালে ইইউতে মোট তৈরি পোশাক আমদানি ২.১০ শতাংশ বেড়ে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও গড় একক দাম কমেছে ১০.২৭ শতাংশ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই দাম কমার হার ৩.৮৪ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ইইউতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৪.১৪ শতাংশ কমে ৯.৪৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের এই সংকটের মাঝে নতুন উদ্বেগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)। দীর্ঘ ২০ বছরের আলোচনার পর সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইইউ শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই চুক্তি সই হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে এটি কার্যকর হলে ভারতীয় পোশাকের ওপর থাকা ১২ শতাংশ শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর দাবি, দিল্লির মূল লক্ষ্য হলো ইউরোপে বাংলাদেশের বাজারের একটি বড় অংশ নিজেদের দখলে নেওয়া। বাংলাদেশ বর্তমানে যেখানে উৎপাদন ব্যয় ও নীতিগত সমস্যার সাথে লড়াই করছে, সেখানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলে ভারত দ্রুত ইউরোপের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করবে।

বিজিএমইএ এবং ইএবি-র শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতে, চীন ও ভারতের আগ্রাসী রপ্তানি নীতির কারণে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর দশা এবং উচ্চ সুদহারের কারণে দেশীয় শিল্পগুলো এখন মুমূর্ষু অবস্থায়। যেখানে প্রতিযোগী দেশগুলো সরকারকে সাথে নিয়ে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা বাড়িয়ে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নিলে ইউরোপের এই বিশাল বাজার হারানোর ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এখন শুধু ভলিউম বা পরিমাণ নয়, বরং উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে নজর দেওয়া জরুরি।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে