ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ট্রাম্পের শুল্ক বাতিলের রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস বাংলাদেশের পোশাক খাতে

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ২৩:০৫:৩৬
ট্রাম্পের শুল্ক বাতিলের রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস বাংলাদেশের পোশাক খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা কিছুটা লাঘব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ভিত্তিক শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার ফলে হুট করে শুল্ক বৃদ্ধির যে খড়গ বাংলাদেশের ওপর ঝুলে ছিল, তার ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। যদিও দুই দেশের সাম্প্রতিক চুক্তির ফলে ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) বহাল রয়েছে, তবে আদালতের এই হস্তক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে একটি স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভিন্ন একটি আইনের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের ঘোষণা দিলেও এটি বাংলাদেশের জন্য খুব একটা বৈষম্যমূলক হবে না, কারণ এটি সব দেশের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য শুল্ক হারের চেয়েও বড় বিষয় হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার মতো একটি পূর্বাভাসযোগ্য পরিবেশ। নতুন শুল্ক ব্যবস্থা যদি আগের অস্থির নীতির চেয়ে বেশি স্থিতিশীল হয়, তবে তা মার্কিন আমদানিকারকদের আস্থা ফেরাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্রয়াদেশের প্রবাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

তবে আদালতের এই রায়ের পর মার্কিন ক্রেতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক অর্ডারের জোয়ার আসবে—এমনটা আশা করা ঠিক হবে না। সাধারণত মার্কিন রিটেইলাররা কয়েক মাস আগেই তাদের সোর্সিং পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে থাকে। পরিবর্তিত এই আইনি পরিস্থিতিতে কিছু ব্র্যান্ড সাময়িকভাবে সর্তক অবস্থান নিতে পারে। তবে আইনি জটিলতা কমে আসায় এবং চীনসহ বড় প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপর উচ্চ শুল্কের খড়গ ঝুলে থাকায়, মার্কিন ব্র্যান্ডগুলো সোর্সিং বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের দিকে আরও বেশি ঝুঁকতে পারে।

অন্যদিকে, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই করা বাণিজ্য চুক্তিটি এখন বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে এবং চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ যথেষ্ট সুরক্ষিত না হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তায়। বর্তমান বাস্তবতায় শুল্ক সুবিধা আদায়ের চেয়েও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, লিড টাইম কমিয়ে আনা এবং কমপ্লায়েন্স মানদণ্ড বজায় রাখার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হবে।

পরিশেষে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই যুগান্তকারী রায় দেশটির নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র বাণিজ্য ক্ষমতায় একটি সাংবিধানিক সীমা টেনে দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে মার্কিন কংগ্রেসের সম্পৃক্ততা বাড়বে, যা বাংলাদেশের মতো রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য নিয়মভিত্তিক একটি সুস্থ বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করবে। আকস্মিক কোনো নির্বাহী আদেশের চেয়ে মার্কিন প্রশাসনের স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে থাকবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে