ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

‘শাপলা’ প্রতীক না দেওয়ার পেছনের কারণ জানালেন ইসি

২০২৫ অক্টোবর ০৭ ০৯:০২:০৫
‘শাপলা’ প্রতীক না দেওয়ার পেছনের কারণ জানালেন ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দলকে জাতীয় ফুল ‘শাপলা’ প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন কমিশন সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে, জাতীয় ফুল শাপলা সংরক্ষিত থাকবে।

ইসির ধারণা, যদি কোনো দল শাপলা প্রতীক পায়, তবে তা সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে এবং আইনি জটিলতার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগকে নিবন্ধনযোগ্য দল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এনসিপিকে ৫০টি প্রতীকের নমুনা থেকে একটি বেছে নিতে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল, যা আজ শেষ হচ্ছে।

নাটোরের কানাইখালীতে জেলা সমন্বয় সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “যে নির্বাচন কমিশন একটি দলকে মার্কা দেয়ার মতো শক্তিশালী না, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতেও সক্ষম হবে না।” এর আগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ইসির চিঠিকে ‘হাস্যকর’ বলেছিলেন। তবে কমিশন এসব বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিবেচনা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, জাতীয় ফুল শাপলা যদি কোনো দলকে দেওয়া হয়, তাহলে এর মর্যাদা ও অমর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। নির্বাচনের পোস্টারে এটি পায়ের নিচে পড়ে গড়িয়ে গেলে সাধারণ মানুষের কাছে এর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে। আইনগতভাবে এর মর্যাদা রক্ষা না হলে প্রতীকের সম্মান হ্রাস পাবে।

তারা আরও জানিয়েছেন, শাপলা প্রতীক দেশের ১৫-২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যবহৃত হয়। যেমন—রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পাসপোর্ট, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও সংসদ ভবনের সামনে।

এক কমিশনার বলেন, “নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের ৪(৩) ও ৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় প্রতীক শাপলার অননুমোদিত ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং অপরাধমূলক। তাই কোনো দলকে শাপলা দেওয়া হলে তা নিয়ে বিরোধ ও মামলা হতে পারে, যার দায় কে নিবে?”

ইসি জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলকে শাপলা প্রতীক দিলে তিনটি প্রধান সমস্যা হবে—

১. জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহৃত প্রতীক যদি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে।

২. রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্রের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

৩. ভোটার মনে করতে পারে এটি কোনো রাজনৈতিক দলের চিহ্ন, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করবে।

ফলস্বরূপ, শাপলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সংবিধানের নিরপেক্ষতা ও ন্যায়সংগত নির্বাচনের নীতির পরিপন্থী হবে। এই কারণেই ইসি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ‘নাগরিক ঐক্য’কে শাপলা প্রতীক দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও কোনো দলকে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে না।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে