×
ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

কোহিনূর কেমিক্যালসের অনুমোদিত মূলধন চার গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ

২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৮:০২:১৩
কোহিনূর কেমিক্যালসের অনুমোদিত মূলধন চার গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোহিনূর কেমিক্যালস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ মূলধনি প্রয়োজন বিবেচনায় কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পরিচালনা পর্ষদ। বর্তমানে কোহিনূর কেমিক্যালসের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা। এই মূলধন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবিত ২০০ কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২০ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত থাকবে।

অর্থাৎ প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন বর্তমানের তুলনায় চার গুণ হবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত সাধারণ শেয়ারের সংখ্যা ৫ কোটি থেকে বেড়ে ২০ কোটিতে উন্নীত হবে।

অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধির এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধির সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সংশোধনের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

তবে অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি এবং সংঘস্মারক ও সংঘবিধি সংশোধনের বিষয়গুলো শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। এ লক্ষ্যে কোম্পানির দ্বিতীয় বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হবে।

এদেকে, কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষ দ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ ক্যাশ এবং ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ বোনাস বা স্টক ডিভিডেন্ড রয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

কোম্পানিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভেডেন্ডের পাশাপাশি ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে পরিচালনা পর্ষদ। অর্থাৎ ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারহোল্ডাররা ২ টাকা ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাবেন। পাশাপাশি প্রতি ১০০টি শেয়ারের বিপরীতে ১২ দশমিক ৫০টি নতুন শেয়ার পাওয়ার অধিকার সৃষ্টি হবে। তবে স্টক ডিভিডেন্ড বিতরণ প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে, সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোহিনূর কেমিক্যালসের শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৬৮ পয়সা। আগের অর্থবছরে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে পুনর্নির্ধারিত হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১৫ টাকা ৫০ পয়সা।

সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২ টাকা ১৮ পয়সা, যা প্রায় ১৪ দশমিক ০৬ শতাংশ। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

শেয়ারপ্রতি আয়ের পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও (এনএভি) বেড়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৭১ টাকা ০১ পয়সা। বিপরীতে ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে পুনর্নির্ধারিত হিসাবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৫৯ টাকা ২৪ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ১১ টাকা ৭৭ পয়সা, যা প্রায় ১৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

তবে শেয়ারপ্রতি আয় ও সম্পদমূল্য বাড়লেও কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহে (এনওসিএফপিএস) উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে।

২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৭৭ পয়সা। অথচ আগের অর্থবছরে পুনর্নির্ধারিত হিসাবে এই সূচক ছিল ১৫ টাকা ৮৮ পয়সা।

সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে ৭ টাকা ১১ পয়সা, যা প্রায় ৪৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ফলে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা ও নিট সম্পদমূল্য বাড়লেও পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় কমেছে।

স্টক ডিভিডেন্ডের অর্থ ব্যবহার করা হবে যেসব খাতে

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড কোম্পানির সংরক্ষিত মুনাফা থেকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানির নিজস্ব মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, স্টক ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে সংরক্ষিত অর্থ মূলধনি যন্ত্রপাতি ক্রয়, নির্মাণকাজ এবং বড় ধরনের সংস্কার ও যন্ত্রপাতির পুনঃসংস্কার কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।

পরিচালনা পর্ষদ আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত স্টক ডিভিডেন্ড সম্পূর্ণভাবে কোম্পানির পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।

কোম্পানিটি স্পষ্ট করেছে, স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে মূলধনি সংরক্ষিত তহবিল, পুনর্মূল্যায়ন সংরক্ষিত তহবিল কিংবা কোনো অবাস্তবায়িত মুনাফা ব্যবহার করা হচ্ছে না।

একই সঙ্গে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার আগের কোনো মুনাফা থেকে স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়নি। পরিশোধিত মূলধন কমিয়ে কিংবা এমন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করে স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়া হচ্ছে না, যার ফলে ডিভিডেন্ড বিতরণের পর কোম্পানির সংরক্ষিত মুনাফা ঋণাত্মক বা ডেবিট স্থিতিতে পরিণত হয়।

এজিএম ও ইজিএমের সময়সূচি

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৪ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে সভা শুরু হবে। একই দিনে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে কোম্পানিটির দ্বিতীয় বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা এবং দ্বিতীয় বিশেষ সাধারণ সভা উভয়ই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া এজিএম ও ইজিএমে অংশগ্রহণের যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণের জন্য আগামী ১৯ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

বার্ষিক সাধারণ সভায় পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ করা ডিভিডেন্ড শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অন্যদিকে বিশেষ সাধারণ সভায় অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা থেকে ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা এবং এ-সংক্রান্ত সংঘস্মারক ও সংঘবিধির সংশোধনী প্রস্তাবের বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে