×
ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান

২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৫:১৪:৫৮
শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে আবারও ধারাবাহিক দরপতনের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। টানা দুই কার্যদিবস সূচক কমায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক লেনদেনের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বাজার সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আগামী কার্যদিবসেও এ নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে টানা তিন কার্যদিবস দরপতনের পর এক কার্যদিবস সূচক বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই ধারা বজায় থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসেও বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারে কার্যকর নজরদারি ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে চলমান অস্থিরতা থেকে উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়বে। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রধান সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাদের ভাষ্য, শেয়ারবাজার এখন অত্যন্ত সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বাজারের সার্বিক অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়তে পারে।

তারা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ধারাবাহিক দরপতন রোধে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। একই সঙ্গে বাজারে নতুন করে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বাজারে চলমান পতনের চাপ কমিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বর্তমানে শেয়ারবাজারে উদ্যোক্তা-পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। বাজারের এমন সংকটময় সময়ে বড় বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা সার্বিক পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে। এ অবস্থায় উদ্যোক্তা-পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দ্রুত শেয়ার কেনায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি আইনসম্মতভাবে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বাধ্যবাধকতা আরোপের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, বাজারে বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে শেয়ার কেনার চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে লেনদেনে গতি আসার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে শুধু বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেই হবে না, বাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা আরও অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারে বেশ কিছু বিতর্কিত কোম্পানির শেয়ার অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে লেনদেন হচ্ছে। এসব শেয়ারের দরবৃদ্ধির পেছনে যারা ভূমিকা রাখছেন, তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অনিয়ম বা কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের মতে, বাজারে কারসাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।

এদিকে, রোববার (০১ নভেম্বর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে। প্রতিবেদনে লেনদেন বৃদ্ধির কথা উল্লেখ থাকলেও প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগের কার্যদিবসের তুলনায় টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩২ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৮৫ দশমিক ১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

একই দিনে ডিএসইর শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট হারিয়ে ১ হাজার ৪৫ দশমিক ৯২ পয়েন্টে নেমেছে। অন্যদিকে বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৮ দশমিক ৪২ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৯০টির দর কমেছে এবং ৪৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে দরপতনের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দরবৃদ্ধির তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি ছিল।

লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ডিএসইতে প্রায় ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। প্রকাশিত এই দুই অঙ্কের ব্যবধান ৮২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মূল্যসূচক কমেছে। তবে এ বাজারে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।

রোববার সিএসইতে মোট ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকার। সে হিসাবে চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন বেড়েছে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

এদিন সিএসইতে মোট ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টির দর বেড়েছে, ৮৪টির দর কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

সূচকের ক্ষেত্রেও চট্টগ্রামের বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮২ দশমিক ০১ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৪৯৪ দশমিক ২৬ পয়েন্টে নেমেছে। অথচ আগের কার্যদিবসে সূচকটি ৪৬ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়েছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিমত, শেয়ারবাজারে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু আশ্বাস বা সাময়িক উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বাজারে কার্যকর নজরদারি জোরদার, অনিয়ম ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং উদ্যোক্তা-পরিচালক, প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলে বাজারের চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ তৈরি হতে পারে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে