×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ধসের মুখে ইসলামী ব্যাংক: লোকসান সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা

২০২৬ অক্টোবর ২৯ ২৩:২৯:২৮
ধসের মুখে ইসলামী ব্যাংক: লোকসান সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি পঞ্জিকা বছরের শুরুর ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকার বিশাল কর-পরবর্তী নিট লোকসানের মুখে পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। যদিও ঠিক আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি প্রায় ৭৯ কোটি টাকার নিট মুনাফায় ছিল।

একইভাবে চলতি (২০২৬-২৭) অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ৪১৪তম কার্যনির্বাহী সভায় উক্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন লাভ করে।

পর্ষদ সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয়ে (ইপিএস)। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে একক হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৫১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯ পয়সা মুনাফা। তবে সমন্বিত হিসাবে এ সময় শেয়ারপ্রতি ২০ টাকা ৪১ পয়সা লোকসান গুণতে হয়েছে, যেখানে গত বছর আয়ের পরিমাণ ছিল ৬২ পয়সা।

অন্যদিকে, শুধু জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসের একক হিসাবে প্রতি শেয়ারে লোকসান দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ২৭ পয়সা, যেখানে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ১৫ পয়সা আয় নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া সমন্বিত পারফরম্যান্সের বিচারে এই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১২ টাকা ২৪ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২০ পয়সা মুনাফা।

সভা থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, চলমান বড় অঙ্কের লোকসানের কারণে ব্যাংকটির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একক পঞ্জিকায় ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকায়, যা পূর্ববর্তী বছরের একই দিনে ছিল ৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। একই সাথে সমন্বিত এনএভি ৭ হাজার ১৬১ কোটি ৬ লাখ টাকা থেকে এক ধাক্কায় ৩ হাজার ৮০৬ কোটি ৫ লাখ টাকায় থিতু হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই সম্পদ কমার ধাক্কা লেগেছে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূলেও (এনএভিপিএস)। একক পারফরম্যান্সে এর পরিমাণ ৪৩ টাকা ২৫ পয়সা থেকে হ্রাস পেয়ে ২২ টাকা ২৭ পয়সা হয়েছে। আবার সমন্বিত পরিমাপের বিচারে প্রতি শেয়ারের নিট সম্পদমূল্য ৪৪ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে কমে ২৩ টাকা ৬৪ পয়সায় ঠেকেছে।

একই সময়ে ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লোতেও বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে। বছরের প্রথম ৯ মাসে একক হিসাবে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩৬ টাকা ৫৪ পয়সা, যা আগের বছর ধনাত্মক ১১ টাকা ৮৯ পয়সা ছিল। সমন্বিত বিচারেও শেয়ারপ্রতি এই নগদ প্রবাহ ১২ টাকা ৪৪ পয়সা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩৬ টাকা ১২ পয়সায়।

বোর্ড সভায় উত্থাপিত নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়, মূলত বিনিয়োগ থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার কারণেই এই নজিরবিহীন লোকসান হয়েছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের আকাশচুম্বী পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাত এবং সেসব বিনিয়োগ থেকে রিটার্ন না আসাই এর মূল কারণ। উপরন্তু, একদিকে বিনিয়োগের আয় সংকুচিত হয়েছে, অন্যদিকে আমানকারীদের দেওয়া মুনাফাজনিত খরচ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব নিজেদের দখলে নেয়। পরবর্তী সময়ে নাম-বেনামি প্রক্রিয়ায় ব্যাংকটি থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বের করে নেয় গ্রুপটি, যার সিংহভাগই বর্তমানে চরম খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকার পতনের পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এটি পরিচালনার ভার স্বতন্ত্র পর্ষদের হাতে ন্যস্ত হয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক এর সার্বিক তত্ত্বাবধান করছে।

মামুন/.

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে