×
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ারবাজারকে বহুমুখী করতে ৩,৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৬:৫৬:৪৯
শেয়ারবাজারকে বহুমুখী করতে ৩,৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে গত পাঁচ মাসে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুমোদিত এসব বন্ডের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইকুইটি বা শেয়ারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে করপোরেট বন্ডের পরিধি বাড়ানো এবং সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও স্থির আয়ের বিকল্প ক্ষেত্র তৈরি করা।

অনুমোদিত বন্ডগুলোর তালিকায় অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের ১ হাজার কোটি টাকার তিন বছর মেয়াদি জিরো-কুপন গ্রিন বন্ড। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে অনুমোদিত হয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকার সাত বছর মেয়াদি সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড, ব্যাংক এশিয়ার ৮০০ কোটি টাকার সাত বছর মেয়াদি সাসটেইনেবল সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার সাত বছর মেয়াদি সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড এবং ওয়ান ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড।

শুধু বন্ড অনুমোদন দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি বিএসইসি, বরং বন্ডের কার্যকর সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে তুলতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে নানা সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত। এর মধ্যে অনুমোদিত বন্ডগুলোকে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে (Main Board) বাধ্যতামূলক তালিকাভুক্ত করা, নির্দিষ্ট সামাজিক ও পরিবেশগত উদ্দেশ্যে ‘থিমেটিক বন্ড’ চালু করা, প্রভিডেন্ট ও পেনশন ফান্ডের টাকা বন্ডে আনা, বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বন্ড ইস্যু সংক্রান্ত পুরনো বিধিমালা আধুনিকায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

বন্ডগুলোকে মূল বোর্ডে কেন আনা হচ্ছে, তার কারণ ব্যাখায় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম গণমাধ্যমকে জানান, দেশের বন্ড মার্কেটকে প্রাণবন্ত করতে এবারই প্রথম মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জে যেকোনো সময় সাধারণ শেয়ারের মতোই বন্ড কেনাবেচা করে সহজেই ক্যাশ-আউট বা বের হয়ে যেতে পারবেন। বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে বন্ডের তালিকাভুক্তি ফি কমানোর নির্দেশনাও ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

গতানুগতিক বন্ডের বাইরে শেয়ারবাজারে পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নের মতো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বন্ড আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নারী ক্ষমতায়নে অর্থায়নের লক্ষ্যে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১৫৮ কোটি টাকার ‘অরেঞ্জ বন্ড’ অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। এটি বাংলাদেশের বিও বা ক্যাপিটাল মার্কেটে একেবারেই নতুন একটি সংযোজন। অন্যদিকে, ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রিন বন্ডের বড় একটি অংশ ব্যবহার করা হবে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ ও টিয়ার-২ মূলধন সংগ্রহে।

দেশের প্রাতিষ্ঠানিক বড় তহবিলগুলোকে (যেমন: প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড) কেবল সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে করপোরেট বন্ড ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে টানতে নতুন নীতিমালার কাজ চলছে। বিএসইসির মুখপাত্রের মতে, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থের একটি নতুন ও শক্তিশালী উৎস তৈরি হবে, যা বেসরকারি খাতকে ব্যাংক ঋণের বিকল্প হিসেবে শেয়ারবাজার থেকে সস্তায় অর্থ তুলতে সাহায্য করবে।

এর পাশাপাশি বীমা কোম্পানিগুলোর বিশাল সঞ্চয় এবং মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক ফান্ড যেন শেয়ারের ঝুঁকি এড়িয়ে স্থির আয়ের করপোরেট বন্ডে বেশি বিনিয়োগ করতে পারে, সেই পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। বন্ড লেনদেনের জন্য পৃথক কেনাবেচা প্ল্যাটফর্মকে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে যেন সেকেন্ডারি মার্কেট গতিশীল থাকে।

সব মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও সময়োপযোগী সুফল পেতে বিএসইসি তাদের বিদ্যমান ‘ডেট ইস্যু রুলস’ বা বন্ড ইস্যু বিধিমালা ঢেলে সাজাচ্ছে। এর ফলে বন্ড ইস্যু ও অনুমোদনের জটিলতা কমে যাবে, প্রক্রিয়ায় সময় কম লাগবে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও স্বচ্ছতা সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।

বিএসইসির নীতিনির্ধারকদের মতে, বাজারকে শুধু শেয়ারনির্ভর করে না রেখে বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যের সমন্বয়ে একটি বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ শেয়ারবাজার তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এসব উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে একদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন ব্যাংক-নির্ভরতা কমিয়ে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন পাবে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরাও স্থির আয়ের বিকল্প সুযোগ থেকে লাভবান হবেন।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে