×
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর মামলা

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৬:৪৫:১৩
ইসলামী ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও ভুয়া কাগজপত্রের ভেলকিতে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তাঁর স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রাম জুবলী রোড শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মঙ্গলবার এই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোকাররম হোসেন।

এই মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন—আরামিট সিমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, এজিএম এ কে এম মারুফ, আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের এজিএম ও ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন, মোহাম্মদ আখতার হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল হক, মো. আবদুল কাদের, মুহাম্মদ আবদুল করিম, মো. শহীদুল্লাহ, মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ মহসীন আলী এবং রিদওয়ানুল হককেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে আরামিট সিমেন্টের নামে ইসলামী ব্যাংকের বহদ্দারহাট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়, যা পরবর্তীতে ২০১৭ সালের মে মাসে জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ৫০০ কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করে।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ঋণের অর্থ ছাড়করণের জন্য আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামের একটি কাগুজে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির নামে ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব খোলা হলেও বাস্তবে নির্ধারিত ঠিকানায় কোনো কার্যালয় বা গুদাম বা ব্যবসার অস্তিত্বই খুঁজে পায়নি দুদক।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও স্ল্যাগসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া চালান ও কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। বাস্তবে কোনো পণ্য সরবরাহ না করেই ২৭টি বাই-মুরাবাহা ডিলের বিপরীতে পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়। এসব পে-অর্ডারের অর্থ প্রথমে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) স্টেশন রোড শাখায় ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের হিসাবে জমা করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ঘুরিয়ে সেই অর্থের একটি অংশ পুনরায় আরামিট সিমেন্টের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২৭টি ডিলের মাধ্যমে মোট ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের আরেকটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ইউসিবির চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের আরেকটি মামলা চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে ওই মামলায় মোট ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্যায়ে বিচারিক কার্যক্রম চলছে।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে