×
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আত্মীয়-স্বজনেরা

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৫:১৫:৫১
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আত্মীয়-স্বজনেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যে পারিবারিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট পরিবারের এমন একাধিক আত্মীয়তার যোগসূত্রের কথা উঠে এসেছে ।

পরিবারটির অন্যতম পরিচিত ব্যক্তি এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরী। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিয়ে ও আত্মীয়তার সূত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রকাশিত জীবনীতে এসব সম্পর্কের কয়েকটি উল্লেখও পাওয়া যায়।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী ফরিদপুরের পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তাঁর বাবা আলমগীর মোহাম্মদ আদেল এবং মা লাইলী চৌধুরী। লাইলী চৌধুরী ছিলেন ফরিদপুরের রাজনীতিক লাল মিয়ার মেয়ে এবং মোহন মিয়ার ভাতিজি বলে প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।

এই সূত্র ধরে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফসহ ফরিদপুরের কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের আত্মীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেলের পরিবারের সঙ্গেও বৈবাহিক সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে।

ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের বিয়ের সূত্রেও বিভিন্ন পরিচিত পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ভাষা আন্দোলনের কর্মী ও সাবেক ক্যাবিনেট সচিব মুজিবুল হকের মেয়ে। অন্যদিকে, সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিয়ের সূত্রে মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিমের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এই পারিবারিক সূত্রে বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরের সঙ্গেও আত্মীয়তার যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বিজ্ঞানী কুদরাত-এ-খুদা ও অন্যান্য পরিচিত পরিবারের বৈবাহিক সম্পর্কের কথাও বলা হয়েছে।চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের আত্মীয়তার সম্পর্কের কথাও প্রকাশিত জীবনীতে পাওয়া যায়। তিনি বেক্সিমকো গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ ছাড়া এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর ভাই এ কে এম ফজলুল কবির চৌধুরীর ছেলে এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাউজান এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে একই বর্ধিত পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশের ভিন্ন রাজনৈতিক ধারায় সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।

সালমান এফ রহমানের সঙ্গে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিবারের আত্মীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট বিবরণ নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।

চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে ব্যবসায়ী হেদায়েত হোসেন চৌধুরীর পরিবারের সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন জীবনীতে উঠে এসেছে। হেদায়েত হোসেন চৌধুরী এইচআরসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর ছেলে সাবের হোসেন চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রকাশিত জীবনীতে এই পরিবারের সঙ্গে ফজলুল কাদের চৌধুরীর আত্মীয়তার সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে।

সাবের হোসেন চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে হারিছ চৌধুরী, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিম এবং সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরীর পরিবারের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট ধরন নিশ্চিত করতে পৃথক তথ্যসূত্র প্রয়োজন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের আত্মীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিচারপতি নাইমুর রেজা চৌধুরী এবং বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতা এইচ এন আশিকুর রহমান, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহা এবং সিলেটের সাবেক মন্ত্রী এম এ হকের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কের কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব দাবির প্রতিটি সম্পর্কের সঠিক ধরন ও পারিবারিক সূত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ফজলুল কাদের চৌধুরী ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের ইতিহাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবারগুলোর পারস্পরিক আত্মীয়তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিয়ে, রক্তের সম্পর্ক ও বর্ধিত পারিবারিক বন্ধনের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে পারিবারিক সম্পর্কের সঙ্গে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা দলীয় অবস্থানকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। একই পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন রাজনৈতিক দলে সক্রিয় থাকতে পারেন, তাঁদের মতাদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থানও আলাদা হতে পারে। তাই এসব আত্মীয়তার তথ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবারের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, একে রাজনৈতিক সমঝোতা বা যোগসাজশের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে