×
ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপে ফের বদলে যাচ্ছে সময়ের হিসাব

২০২৬ অক্টোবর ২৪ ০৭:৫৬:২১
ইউরোপে ফের বদলে যাচ্ছে সময়ের হিসাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের দীর্ঘদিনের প্রথা থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েও এখন পর্যন্ত সফল হয়নি ইউরোপ। ২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এই ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব বিপুল ভোটে অনুমোদিত হলেও সাত বছর পরও তা কার্যকর করা যায়নি। ফলে রোববার আবারও ইউরোপের অধিকাংশ দেশে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছানো হবে।

আগামীকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে ইউরোপের অধিকাংশ দেশে স্থানীয় সময় রাত ৩টা থেকে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে রাত ২টায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এর ফলে মানুষ এক ঘণ্টা অতিরিক্ত ঘুমানোর সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে সকালে সূর্যের আলো আগে দেখা যাবে এবং সন্ধ্যাও নামবে তুলনামূলক দ্রুত।

ঋতুভেদে সময় পরিবর্তনের এই নিয়ম নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। ২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক জনমত জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৮৪ শতাংশই বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা বদলানোর ব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে মত দেন।

জনমতের পরের বছর, ২০১৯ সালে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রথাটি বাতিলের প্রস্তাব ৪১০-১৯২ ভোটে পাস হয়। পরিকল্পনা ছিল ২০২১ সাল থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু করার। তবে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় সেই উদ্যোগ আর বাস্তবায়নের পথে এগোয়নি।

স্থায়ীভাবে কোন সময়ব্যবস্থা চালু রাখা হবে, তা নিয়েই মূলত ইউরোপীয় দেশগুলোর মতবিরোধ। কোনো কোনো দেশ সারা বছর গ্রীষ্মকালীন সময় রাখতে চায়, আবার অন্যদের পছন্দ শীতকালীন সময়। দেশভেদে সময়ের পার্থক্য তৈরি হলে পরিবহন, বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে করোনাভাইরাস মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মতো বড় সংকটের কারণে বিষয়টি ইউরোপের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের তালিকায় গুরুত্ব হারায়। ফলে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের নিয়ম বাতিলের প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর হয়নি।

শুরুতে জ্বালানি সাশ্রয়কে সামনে রেখেই মৌসুমি সময় পরিবর্তনের প্রথা চালু করা হয়েছিল। ১৯৭৬ সালে তেলসংকটের পর ফ্রান্সে গ্রীষ্মকালীন সময় চালু হয়। পরে ১৯৮০ সালে পশ্চিম জার্মানিসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলোও সময়ের সমন্বয়ে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে। তবে বর্তমান সময়ে এই ব্যবস্থায় প্রকৃতপক্ষে কতটা জ্বালানি সাশ্রয় হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইউরোপের অধিকাংশ দেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালেও রোববার একই দিনে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করা হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের অবসান ঘটবে আগামী ১ নভেম্বর।

বিশ্বের অনেক দেশ অবশ্য মৌসুমি সময় পরিবর্তনের নিয়ম অনুসরণ করে না। মরক্কো, থাইল্যান্ড, জাপান, আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এই ধরনের ব্যবস্থা চালু নেই।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে স্থায়ী সময়ব্যবস্থা নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা কবে বন্ধ হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে আপাতত আগের নিয়ম মেনেই ইউরোপের অধিকাংশ দেশের মানুষকে বছরে দুবার সময় পরিবর্তন করতে হবে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে