×
ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি-আমিরাত-নেতানিয়াহুর বিশাল গোপন অর্থ লেনদেন নিয়ে বিতর্ক

২০২৬ অক্টোবর ২৩ ১৭:৫৪:১২
সৌদি-আমিরাত-নেতানিয়াহুর বিশাল গোপন অর্থ লেনদেন নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের তিন প্রভাবশালী নেতা—সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথিত গোপন আর্থিক লেনদেন নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে। এ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাথু কোলের নতুন বই প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস-এর একটি অংশ সম্প্রতি মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ার-এ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। বইয়ে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডসের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এক রুশ হ্যাকারের সহায়তায় কুশনারের আইফোনের স্ক্রিনে নজরদারি চালানোর সুযোগ পায়। ওই নজরদারির মাধ্যমে তাঁর কিছু গোপন ব্যাংকিং কার্যক্রম ও নথিপত্রের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশিত বর্ণনা অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে ‘আলফা’ নামে একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার লেনদেন হয় বলে দাবি করা হয়েছে। আজারবাইজানের একটি ব্যাংকের গোপন ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাহায্যে বিপুল পরিমাণ রিয়াল ও দিরহাম মার্কিন ডলারে রূপান্তর করে ওই অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আরও দাবি করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি সামরিক সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থার আড়ালে তহবিলটি পরিচালিত হতো। এর গোপন স্বাক্ষরকারীদের একজন হিসেবে কুশনারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত-ফল এই প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হয়নি।

কথিত যৌথ তহবিল ও ‘বেটা’ অ্যাকাউন্ট

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে সৌদি ও আমিরাতের নেতৃত্ব ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানো এবং কুশনারের মধ্যস্থতায় মধ্যপ্রাচ্যের নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের একটি যৌথ তহবিল তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই তহবিলের অংশ হিসেবে আজারবাইজানের মাধ্যমে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ‘বেটা’ নামে আরেকটি গোপন অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০০ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টটি তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরে ওই অর্থ সাইপ্রাসের বিভিন্ন ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে কথিত লেনদেনের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হিসেবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন, সৌদি যুবরাজের ক্ষমতা সুসংহত করা এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব উদ্দেশ্য ও অর্থের গতিপথ সম্পর্কে উত্থাপিত দাবিগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার মতো স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন, অভিযোগ অস্বীকার কুশনারের

মার্কিন আইন ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস)-এর নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বিদেশি ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক স্বার্থ বা নিয়ন্ত্রণের বিষয় থাকলে নির্ধারিত নিয়মে তা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন আইন বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনকালে অননুমোদিত বিদেশি তহবিলের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা ফেডারেল ঘুষ বা বিদেশি প্রতিনিধিত্বসংক্রান্ত আইনের প্রশ্ন তুলতে পারে।

তবে কুশনার এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব ছিল না। তিনি আরও দাবি করেছেন, কুশনার তৎকালীন প্রেসিডেন্টের অনুমতি নিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বইয়ে প্রকাশিত দাবি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ফলে কথিত অ্যাকাউন্ট, অর্থের উৎস ও গন্তব্য, সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করতে স্বাধীন নথি ও নির্ভরযোগ্য তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে