×
ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

হাসনাতের বক্তব্যের জবাবে যা বললেন স্নিগ্ধ

২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৫:৩২:৫৬
হাসনাতের বক্তব্যের জবাবে যা বললেন স্নিগ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিরোধী দলের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যোগসাজশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার এই সমালোচনার জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপিতে যোগ দেওয়া মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। হাসনাতের বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের কার্যক্রমকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা না করে বৃহত্তর স্বার্থের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে স্নিগ্ধ এসব কথা বলেন। তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং বিরোধী দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করার চেয়ে বর্তমান সরকারকে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে তুলনা করাই হাসনাতের পোস্টে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার রাজশাহীর এক জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। পলাতক স্বৈরাচার শ্রমিক অসন্তোষ তৈরিতে অর্থ সরবরাহ করছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা কয়েকটি দলও এতে যুক্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী দলের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যোগসাজশের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের ওপর রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়ে গোয়েন্দাগিরি করার বার্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

হাসনাত আরও বলেন, বিরোধী দলের ওপর গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করার এই সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনী কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের সেবক।

হাসনাতের পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় স্নিগ্ধ লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা যাচাই কিংবা আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো যোগসাজশ থাকলে তা নিয়ে আলোচনার চেয়ে বর্তমান সরকারকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করাই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্নিগ্ধের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কারা কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না কিংবা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দায়িত্ব।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধী দল ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মধ্যে সত্যিই কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না এবং থাকলে তার প্রমাণ কী—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে বর্তমান সরকারকে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে একই কাতারে দাঁড় করানোর চেষ্টা কেন করা হচ্ছে?

স্নিগ্ধের অভিযোগ, হাসনাতের দীর্ঘ পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণের চেয়ে আওয়ামী লীগ আমলের গুম, খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রসঙ্গ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

হাসনাতকে উদ্দেশ করে স্নিগ্ধ বলেন, সবকিছুকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে বৃহত্তর স্বার্থের দিকে তাকানো প্রয়োজন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জুলাই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার দায় নির্ধারণ এবং বিচার নিশ্চিত করা এখনো জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্নিগ্ধ আরও বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের সঙ্গে কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে বিশ্বাসঘাতকতা করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত। অপরাধী যে দলেরই হোক বা যে পরিচয়েরই হোক, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানোর আহ্বান জানান তিনি।তার মতে, কোনো রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি অন্ধ আনুগত্য যেন জুলাইয়ের চেতনার চেয়ে বড় হয়ে না ওঠে।

স্নিগ্ধ বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক ঘটনাকে শুধু বর্তমান সরকার বনাম আওয়ামী লীগ কিংবা সরকার বনাম বিরোধী দলের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হলে জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষাগুলো আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়েই মানুষ রাজপথে নেমেছিল। রাজনৈতিক কৌশলের কারণে সেই লক্ষ্য যেন গৌণ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে স্নিগ্ধ জুলাইয়ের শহীদদের ন্যায়বিচার এবং দেশের মানুষের স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর যমজ ভাই। তিনি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ পেলেও পরবর্তী সময়ে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে