×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বিমায় জালিয়াতি ও জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধে কড়া নিয়ম জারি

২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৯:২৫:২৪
বিমায় জালিয়াতি ও জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধে কড়া নিয়ম জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে বিমা খাতের মাধ্যমে অর্থপাচার ও জঙ্গিবাদে অর্থায়ন বন্ধ করতে জীবন ও সাধারণ (লাইফ ও নন-লাইফ) বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক গুচ্ছ নতুন ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহক শনাক্তকরণে কড়াকড়ি আরোপ, ঝুঁকি পর্যালোচনা এবং সন্দেহজনক লেনদেনের ওপর সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি বজায় রাখা।

‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২’ এবং ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯’-এর আওতায় এই সমন্বিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি বিমা কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক মান ও দেশের প্রচলিত আইনের আলোকে নিজেদের জন্য নিজস্ব প্রতিরোধমূলক নীতিমালা তৈরি করতে হবে। এটি পরিচালন পর্ষদ বা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধানী কমিটির অনুমোদন পেতে হবে এবং সময়ে সময়ে এটি হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি বছর বিমা কোম্পানির প্রধান নির্বাহীকে (সিইও) সব কর্মকর্তা ও এজেন্টের উদ্দেশ্যে অর্থপাচার প্রতিরোধে একটি আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকারনামা প্রকাশ করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে ‘সেন্ট্রাল কমপ্লায়েন্স ইউনিট’ গঠন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ইউনিটের দায়িত্বে থাকবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) থেকে সর্বোচ্চ দুই ধাপ নিচের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি প্রধান কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা (ক্যামেলকো/CAMLCO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন নিয়মের আওতায় প্রতিটি বিমা কোম্পানিকে তাদের প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি শাখা, এজেন্সি ও ইউনিট পর্যায়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বিএফআইইউ-এর কাছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের বছরের সামগ্রিক কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

গ্রাহক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিএফআইইউ-এর ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (e-KYC) প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে বলা হয়েছে, বেনামী বা ভুয়া নামে কোনো বিমা পলিসি খোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। রাজনীতিবিদ, প্রভাবশালী ব্যক্তি (PEP) এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা বা ই-ডিউ ডিলিজেন্স প্রয়োগ করতে হবে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যতিরেকে একদিনে কোনো বিমা গ্রাহক যদি ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন করেন, তবে পরবর্তী মাসের প্রথম সাত কার্যদিবসের মধ্যে নির্দিষ্ট ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউ-কে তা জানাতে হবে। এছাড়া কোনো অস্বাভাবিক বা জটিল লেনদেন চোখে পড়লে তা অবিলম্বে কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট হয়ে বিএফআইইউ-কে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বা সন্দেহভাজন তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম বিমা গ্রাহকের সঙ্গে মেলে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি কোনো পলিসি বন্ধ বা দাবি নিষ্পত্তির পরও ন্যূনতম পাঁচ বছর পর্যন্ত সকল প্রয়োজনীয় নথিপত্র, অডিট রিপোর্ট ও কেওয়াইসি ডাটা সংরক্ষণ করার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে