×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

যেভাবে গ্রেফতার হলেন ফজলুল হক আমিনী

২০২৬ অক্টোবর ২০ ০৭:০৮:২৪
যেভাবে গ্রেফতার হলেন ফজলুল হক আমিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার দেবহাটায় চাঞ্চল্যকর ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে অবশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে ধরা পড়তে হয়েছে। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত এগারোটার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) যৌথ দলের সাঁড়াশি অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে প্রকাশ, এ নিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলায় মোট তিন জন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হলো। এর আগে এই একই মামলার আরও দুজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এবং গ্রেফতার এড়ানোর উদ্দেশ্যে মূল অভিযুক্ত আমিনী আত্মগোপনের নানা ফন্দিফিকির আঁটছিলেন। নিজের ব্যবহৃত সাধারণ ফোন ও সিম ফেলে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন একটি সিম ও মুঠোফোন ব্যবহার করতে শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে জনৈক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে ওই নতুন সিম দিয়েই অন্য এক ব্যক্তির পরিচয়ে কথা বলছিলেন। মূলত এই যোগাযোগের সূত্র ধরেই আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত করে যৌথ বাহিনী।

অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে ছিল দেবহাটা সার্কেল, কালিগঞ্জ ও দেবহাটা থানা এবং এসআরবি-৬ এর চৌকস সদস্যরা। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন গণমাধ্যমকে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে পাকড়াও করা হয়েছে। আটকের মুহূর্তে তার কাছে নিজস্ব ফোনটি পাওয়া যায়নি, বরং ভিন্ন পরিচয় গোপন করার জন্য ব্যবহৃত বেনামি সিম ও মোবাইলটি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে বিশেষ কোনো তথ্য না মিললেও, তাকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মিথ্যে বা বাস্তব অভিযোগে উন্মত্ত জনতা দফায় দফায় পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনার আগের দিন সোমবার শামীম ও তার স্ত্রীর ফোনালাপের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। ওই দিন স্থানীয় বাজারে প্রথম দফায় তাকে মারধর করা হয়।

পরবর্তীতে মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একদল লোক তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে পুনরায় শারীরিক নির্যাতন চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন ফজলুল হক আমিনীর সরাসরি নেতৃত্বে রাতের বেলা একটি মিছিল নিয়ে সরাসরি হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। সেখান থেকে মুমূর্ষু শামীমকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে আবারও বেধড়ক পেটানো হয়। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পথেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে আড়াইশ মানুষকে আসামি করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার ভোরে পুলিশ মামলার ৫ ও ৬ নম্বর আসামি যথাক্রমে মোক্তার হোসেন খান ও আসাদুল ইসলাম মোল্যাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত বাকি অপরাধীদেরও শনাক্ত ও গ্রেফতারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে