×
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

তৃণমূল থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়ে ওঠা ইশরাকের বর্ণাঢ্য পথচলার গল্প

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ২১:০০:১০
তৃণমূল থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়ে ওঠা ইশরাকের বর্ণাঢ্য পথচলার গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে পদ ছাড়লেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপির এই নেতা।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের পরিচয়ের বাইরে গিয়ে বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে তিনি মাদকবিরোধী লড়াই চালিয়ে যেতে চান।

ইশরাক আরও দাবি করেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের একপর্যায়ে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।

অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে ঘটনাটিতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট থানা ও উপকমিশনারকে (ডিসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা অভিযানের সময় কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইশরাক হোসেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচিত একটি পরিবারের সন্তান। ১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক বিএনপির প্রয়াত নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এবং ইসমত আরার জ্যেষ্ঠ সন্তান।

বাবার রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি নিজস্ব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েও দলীয় রাজনীতিতে পরিচিতি গড়ে তোলেন ইশরাক।

ইশরাক হোসেন ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে ও-লেভেল ও এ-লেভেল সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাজ্যে অটোমোবাইল শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা ও গণমাধ্যমের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন ইশরাক। তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পান ইশরাক হোসেন। নির্বাচনের পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

২০২১ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় তাঁদের রক্ষা করতে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও তাঁকে আলোচনায় আনে। পরবর্তী সময়ে জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হন তিনি। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত হন।

গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতির ভিডিও ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক জীবনে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার ঘোষণা দিলেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তদন্তের ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্তে কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তার ওপর পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ভর করবে। পদত্যাগের ঘোষণার পর ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক ভূমিকা কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে