×
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

৮ মাসে কপাল পুড়ল তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ২০:২০:৫৯
৮ মাসে কপাল পুড়ল তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতায় আসার মাত্র আট মাসের মাথায় বিএনপি সরকারের তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং এক সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। তবে এই পদত্যাগগুলোর কোনটিই ব্যক্তিগত স্বেচ্ছায় হয়নি; বরং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি নির্দেশনায় তারা পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। শৃঙ্খলা ও জনপ্রত্যাশার প্রশ্নে সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ এটি।

সবশেষ আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে একটি মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক। অভিযানের সময় তার নিজের হাতে এবং সঙ্গে থাকা সহযোগীদের হাতে স্পষ্টতই আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। অস্ত্র উঁচিয়ে নেওয়া এই অভিযানের ভিডিও ফুটেজ তিনি নিজ ফেসবুক পেজে শেয়ার করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। জনমনে সমালোচনার পাশাপাশি এই ঘটনা বিএনপি ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে চরম অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি করে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড়ের মুখে রবিবারই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের ধারাবাহিকতায় আজ আনুষ্ঠানিকভাবে পদ ছাড়েন তিনি।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট মন্তব্য করে বলেন, সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একটি সুনির্দিষ্ট বার্তা রয়েছে—জনপ্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কাজ যদি কেউ করেন, তিনি যত ঘনিষ্ঠ বা কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই তা কাজ দিয়ে প্রমাণ করেছেন। আইনমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন যে, দেশের কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং বিষয়টি সবাইকে সর্বদা মাথায় রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, ইশরাক হোসেনের আগে এই আট মাসের মধ্যে আরও দুই মন্ত্রীকে একইভাবে পদ ছাড়তে হয়েছে। তারা হলেন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাশ্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন দীপেন দেওয়ান, যা পরবর্তীতে গৃহীত হয়। যদিও তার পদত্যাগপত্রে 'শারীরিক অসুস্থতা'কে কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে শারীরিক জটিলতার কারণে প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা ধরে রাখতে তিনি অব্যাহতি নিচ্ছেন, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এর পেছনে ভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা ছিল। বিশেষ করে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নিয়ে মতপার্থক্য এবং রাঙ্গামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। তার এই আকস্মিক বিদায়ে খোদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বিস্মিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার সমর্থকেরা রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল করে দাবি করেন যে, মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় জহির উদ্দিন স্বপনকে। ওইদিনই আন্দালিব রহমান পার্থকে নতুন তথ্যমন্ত্রী করা হয় এবং স্বপনকে পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা পদে নিয়ে আসা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃতপক্ষে তার মন্ত্রিত্বও একপ্রকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

শুধু মন্ত্রিসভার সদস্যই নন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপি সরকারের এক সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যকেও পদ ছাড়তে হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গত ১ অক্টোবর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে