×
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

দুধ খাঁটি নাকি ভেজাল, ঘরে বসে জানার সহজ উপায়

২০২৬ অক্টোবর ১৮ ০৯:৪০:০৬
দুধ খাঁটি নাকি ভেজাল, ঘরে বসে জানার সহজ উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুধ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। চা-কফি তৈরি, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা কিংবা বিভিন্ন খাবার ও মিষ্টান্ন তৈরিতে নিয়মিত দুধ ব্যবহার করা হয়। তবে বাজার থেকে কেনা দুধের গুণগত মান ও বিশুদ্ধতা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে দুধে পানি বা অন্য কোনো উপাদান মেশানো হয়েছে কি না, তা সাধারণভাবে বোঝা কঠিন হতে পারে।

দুধে ভেজাল শনাক্ত করার বিষয়ে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই) বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে। তবে দুধ ঝাঁকিয়ে ফেনা তৈরি হওয়ার ধরন দেখে একে সম্পূর্ণ খাঁটি বা ভেজাল বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। কারণ দুধের স্বাভাবিক উপাদান, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের ধরনেও ফেনার পরিমাণ ও স্থায়িত্বের পার্থক্য হতে পারে।

দুধে ডিটারজেন্ট মেশানোর ঝুঁকি

দুধে ডিটারজেন্ট মেশানো হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ডিটারজেন্টের উপাদান তরলের পৃষ্ঠটান কমিয়ে ফেনা তৈরিতে সহায়তা করে এবং ফেনা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হতে পারে। এ কারণে দুধ ঝাঁকানোর পর অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী ফেনা দেখা গেলে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু এই লক্ষণ দিয়ে ডিটারজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ঘরে বসে কীভাবে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করবেন

দুধের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করতে পরিষ্কার কাচের পাত্রে অল্প পরিমাণ দুধ নিয়ে হালকাভাবে ঝাঁকানো যেতে পারে। এরপর ফেনা তৈরি হচ্ছে কি না এবং কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে, তা লক্ষ্য করুন। অস্বাভাবিকভাবে ঘন বা দীর্ঘস্থায়ী ফেনা দেখা গেলে সতর্ক হওয়া ভালো। তবে এই পর্যবেক্ষণ কেবল প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে; এটি নির্ভরযোগ্য ভেজাল শনাক্তকরণ পরীক্ষা নয়।

দুধে ডিটারজেন্ট বা অন্য কোনো ক্ষতিকর উপাদান আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। সন্দেহজনক দুধের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য ঘরোয়া পরীক্ষার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

দুধ কেনার সময় যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন

দুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেনার সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। প্যাকেটজাত দুধের ক্ষেত্রে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদানের তালিকা, প্রস্তুতকারকের তথ্য এবং প্যাকেটের সিল পরীক্ষা করে নিন। প্যাকেট ফুটো, ফুলে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা কেনা থেকে বিরত থাকুন।

বিশ্বস্ত বিক্রেতা ও নির্ভরযোগ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দুধ বেছে নেওয়া ভালো। পাস্তুরিত দুধ কেনার পর প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করতে হবে। দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা দুধের পরিবর্তে যথাযথভাবে সংরক্ষিত দুধ ব্যবহার করা নিরাপদ।

এ ছাড়া শুধু টেট্রা প্যাক বা নির্দিষ্ট ধরনের প্যাকেজিং হলেই দুধ শতভাগ ভেজালমুক্ত—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্যাকেজিংয়ের ধরন, উৎপাদনপ্রক্রিয়া, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার মান—সবকিছুই দুধের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।

দুধের রং, গন্ধ, স্বাদ কিংবা ফেনার ধরন অস্বাভাবিক মনে হলে সেটি পান না করাই ভালো। দুধে ভেজাল থাকার সন্দেহ হলে বিক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে জানানো যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, ঘরোয়া পর্যবেক্ষণ প্রাথমিক সতর্কতা দিতে পারে, কিন্তু দুধের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো যথাযথ পরীক্ষাগারে পরীক্ষা।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর

উ
প
রে