×
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বছরজুড়ে আর্থিক সূচকে ইতিবাচক ধারা, আসছে সুখবর!

২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৯:১৬:১৬
বছরজুড়ে আর্থিক সূচকে ইতিবাচক ধারা, আসছে সুখবর!

নিজস্ব প্রতিবেদক: আর্থিক সূচকে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন খাতের কোম্পানি নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির । ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস), পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বেড়েছে। বিক্রয় আয় ও মোট মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থায়ন ব্যয় কমে আসাকে মুনাফা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি। একই সঙ্গে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

আগামী ২৮ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিতব্য পরিচালনা পর্ষদের সভাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ওই সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি বার্ষিক ডিভিডেন্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। গত অর্থবছরে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল কোম্পানিটির পর্ষদ। চলতি অর্থবছরে আর্থিক সূচকের উন্নতি অব্যাহত থাকলে ডিভিডেন্ড বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে লভ্যাংশের হার বাড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

তিন প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ৩১ দশমিক ৫২ শতাংশ

কোম্পানিটির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে নাভানা ফার্মার শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪ টাকা ৫৯ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ৩ টাকা ৪৯ পয়সা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে নয় মাসের ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা বা প্রায় ৩১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

শুধু নয় মাসের সামগ্রিক ফলাফল নয়, তৃতীয় প্রান্তিকেও মুনাফার উন্নতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ১ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকের শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২১ পয়সা।

প্রতিবেদনে একই সময়ের জন্য মিশ্রিত শেয়ারপ্রতি আয়ও প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে মিশ্রিত ইপিএস ছিল ১ টাকা ২০ পয়সা। আর ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে মিশ্রিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৫৫ পয়সা।

কোম্পানিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিক্রয় আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নীতি অনুসরণের কারণে মুনাফায় উন্নতি হয়েছে। উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম থেকে আয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে ভবিষ্যতেও মুনাফার ইতিবাচক ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথমার্ধেও মুনাফা ও নগদ প্রবাহে উন্নতি

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনেও নাভানা ফার্মার ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির মিশ্রিত ইপিএস ছিল ১ টাকা ৬৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৩৫ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ২ টাকা ২৫ পয়সা।

প্রতিবেদনে মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে নিট মুনাফা, বিক্রয় আয় ও মোট মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থায়ন ব্যয় কমে আসার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথম প্রান্তিকেও কোম্পানিটি ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশ করেছিল। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৭১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা। তবে ওই প্রান্তিকের প্রতিবেদনের আরেক জায়গায় মিশ্রিত ইপিএস ১ টাকা ৬৯ পয়সা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রথম প্রান্তিকের ইপিএসের ক্ষেত্রে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে সামান্য অসংগতি রয়েছে, যা মূল আর্থিক প্রতিবেদন থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

পরিচালন নগদ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

নাভানা ফার্মার আর্থিক অবস্থার মূল্যায়নে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহের উন্নতিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১৫ টাকা ৪৪ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১০ টাকা ২২ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ৫ টাকা ২২ পয়সা।

কোম্পানিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রতিবেদনকালীন সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ প্রাপ্তি পরিচালন কার্যক্রমে নগদ অর্থ পরিশোধের তুলনায় বেশি থাকায় এ উন্নতি হয়েছে।

প্রথম ছয় মাসেও নগদ প্রবাহের উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ৮ টাকা ১১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ টাকা ১৬ পয়সা। প্রথম প্রান্তিকে এ সূচক ছিল ৫ টাকা ৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা।

সাধারণভাবে পরিচালন নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি কোম্পানির দৈনন্দিন ব্যবসা থেকে নগদ অর্থ উৎপাদনের সক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। তবে নগদ প্রবাহের এই উন্নতি কতটা টেকসই, তা বুঝতে পাওনা আদায়, মজুত পণ্য, সরবরাহকারীদের পাওনা এবং পরিচালন ব্যয়ের গতিপ্রকৃতিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যও বেড়েছে

কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যেও ধারাবাহিক উন্নতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুনে এনএভি ছিল ৪৫ টাকা ২৯ পয়সা। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ টাকা ৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৪৮ টাকা ৩২ পয়সা। সর্বশেষ ৩১ মার্চ ২০২৬-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৫৩ পয়সা।

অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুনের শেষ থেকে ২০২৬ সালের মার্চের শেষ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৪ টাকা ২৪ পয়সা। এটি কোম্পানিটির সম্পদমূল্যের অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও এনএভি বৃদ্ধি এককভাবে শেয়ারের বাজারদর বা ভবিষ্যৎ মুনাফার নিশ্চয়তা দেয় না।

উৎপাদন সম্প্রসারণে বৈদেশিক ঋণের পরিকল্পনা

দেশীয় ব্যবসার পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে নাভানা ফার্মা। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ২ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার ইউরো নয়, বরং মোট ২ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার ইউরো পরিমাণ বৈদেশিক ঋণসুবিধা গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ঋণটির মেয়াদ ১২ বছর। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টভিত্তিক প্রতিষ্ঠান একেএ আউসফুরক্রেডিট-গেজেলশাফট এমবিএইচ এ ঋণসুবিধার একমাত্র অর্থায়নকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কেজিএমসি ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, বাংলাদেশকে।

উল্লিখিত ঋণসুবিধা উৎপাদন অবকাঠামো সম্প্রসারণে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির। তবে প্রস্তাবিত অর্থায়ন সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

এ ছাড়া, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় কারখানায় জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন প্রকল্প অনুমোদন এবং শ্রীলঙ্কায় একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা লিয়াজোঁ অফিস প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বিনিয়োগের বিপরীতে ঋণের সুদ, পরিশোধের সময়সূচি, প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয় এবং নতুন বাজারে ব্যবসার সম্ভাব্যতা কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ আর্থিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

ডিভিডেন্ডের ইতিহাস ও আসন্ন বোর্ড সভা

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য নাভানা ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল। এ ক্ষেত্রে স্পনসর শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকদের হাতে থাকা ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৪টি শেয়ারের বিপরীতে তাঁরা লভ্যাংশের বাইরে ছিলেন বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট প্রদেয় ডিভিডেন্ডের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৭৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৯ টাকা ৪০ পয়সা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ইপিএস বৃদ্ধি, পরিচালন নগদ প্রবাহের উন্নতি এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য বাড়ার বিষয়গুলো আসন্ন বার্ষিক ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্তে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নয় মাসের ইপিএস আগের বছরের তুলনায় ৩১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডিভিডেন্ড বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

ডিভিডেন্ড বাড়ার সম্ভাবনা কতটা?

প্রকাশিত আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, নাভানা ফার্মার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের আর্থিক পারফরম্যান্স আগের বছরের তুলনায় উন্নত। ইপিএস বৃদ্ধি, পরিচালন নগদ প্রবাহের অগ্রগতি এবং এনএভি বাড়ার বিষয়গুলো ডিভিডেন্ড বৃদ্ধির পক্ষে ইতিবাচক উপাদান।

তবে নয় মাসের আর্থিক ফলাফল দেখেই ডিভিডেন্ড বাড়বে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। পূর্ণ অর্থবছরের নিরীক্ষিত মুনাফা, চূড়ান্ত নগদ প্রবাহ, বিদ্যমান ঋণ ও অর্থায়ন ব্যয়, উৎপাদন সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় মূলধন এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বিবেচনা করে পরিচালনা পর্ষদকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদেশি ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে ঋণের দায় ও অর্থায়ন ব্যয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে।

ফলে ১৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের তুলনায় এবার বেশি ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত ফলাফল এবং কোম্পানির অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনার ওপর। বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে লভ্যাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ইতিবাচক প্রত্যাশা হিসেবে দেখা যায়, নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে নয়।

পর্ষদ ও শেয়ার হস্তান্তরসংক্রান্ত তথ্য

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান গঠন সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ২০২৬ সালের ১৮ জুনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালনা পর্ষদের ৬৪তম সভা স্থগিত রাখা হয় এবং ৬৩তম সভায় থাকা পর্ষদের গঠন বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেই অনুযায়ী, পর্ষদের বর্তমান সদস্যরা হলেন চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক সাইকা মাজেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জোনায়েদ শফিক, পরিচালক ড. সাঈদ আহমেদ, জাভেদ কায়সার আলী, তারানা আহমেদ ও মাসুমা পারভিন, স্ট্র্যাটাস হোল্ডিংস লিমিটেডের মনোনীত পরিচালক খন্দকার সাব্বির মোহাম্মদ কবির এবং স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যারিস্টার মো. আরিফ বিল্লাহ ও অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

এদিকে, উদ্যোক্তা মনজুরুল ইসলামের হাতে থাকা নাভানা ফার্মার ১৬ লাখ ৪ হাজার ৬০৩টি শেয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জোনায়েদ শফিকের কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ২০২৬ সালের ২ আগস্ট থেকে পরবর্তী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে লেনদেন ব্যবস্থার বাইরে, উপহার হিসেবে নয়, বিধি অনুসারে হস্তান্তর সম্পন্ন করার অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কোম্পানি জানায়, ৪ আগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত ঘোষণার ভিত্তিতে শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।

ঋণমান ও বিনিয়োগকারীদের বিবেচ্য বিষয়

ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড (এনসিআর) নাভানা ফার্মাকে দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’ ঋণমান দিয়েছে। এ রেটিংয়ের সঙ্গে স্থিতিশীল পূর্বাভাস যুক্ত রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং রেটিং ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, নাভানা ফার্মার আর্থিক সূচকে উন্নতি, উৎপাদন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা, বিদেশে ব্যবসা বাড়ানোর উদ্যোগ এবং স্থিতিশীল ঋণমান কোম্পানিটির জন্য ইতিবাচক দিক। তবে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল, নগদ প্রবাহের স্থায়িত্ব, ঋণের দায় এবং পরিচালনা পর্ষদের ঘোষিত লভ্যাংশের হার বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। আগামী ২৮ অক্টোবরের বোর্ড সভা কোম্পানিটির বার্ষিক আর্থিক ফলাফল ও লভ্যাংশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে